তিন বক্তব্যে শঙ্কিত বি চৌধুরী

জাতীয় যুক্তফ্রন্ট নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তিনটি সংবাদকে ঘিরে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নতুন করে সংশয়ের মধ্যে আছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার কল্যাণ পার্টির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি এ সংশয় প্রকাশ করেন। সংবাদ তিনটি হলো শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব করেছিল, বিএনপি মহাসচিব বলেছেন ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার না করা হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহ বলেছেন, সরকার নির্বাচন কমিশনকে একটি তালিকা দিয়েছে। তিনি এসব সংবাদের সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে এ ধরনের মিথ্যা-বানোয়াট কথা বলা হচ্ছে। তিনি এসব বক্তব্য প্রদানকারীদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণের দাবি জানান।
কল্যাণ পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) চেয়ারম্যান ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী, ফরওয়ার্ড পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমিন, বিকল্পধারা মহাসচিব মেজর (অব.) এম এ মান্নান, কল্যাণ পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল সাদেক আহমেদ খান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নেতা ওমর ফারুক শিকদার প্রমুখ।
অধ্যাপক বি চৌধুরী আরো বলেন, এখনো নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে নিয়মিত মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাঁর দল মিথ্যা কথার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। তবে নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে মিথ্যাচার করা হলেও বি চৌধুরী আশাবাদী আগামী নির্বাচন সঠিকভাবে হবে এবং দেশে সব রাজনৈতিক দলই তাতে অংশগ্রহণ করবে। এ সময় বি চৌধুরী আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমালোচনা করে বলেন, এসব দল যখন ক্ষমতায় ছিল জনগণের সম্পদ লুট করেছে। আর যখন তারা বিরোধী দলে ছিল তখন হরতাল-নৈরাজ্য-সন্ত্রাস করেছে। দেশকে এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতির হাত থেকে রক্ষা করতেই জাতীয় যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বলেন, বাংলাদেশে এখন নেতা এবং নেতৃত্ব উভয়েরই পরিবর্তন দরকার। আর এ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই ‘পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি’Ñ এই সেøাগান নিয়ে ঠিক এক বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল কল্যাণ পার্টি। তিনি বলেন, পরিবর্তন করার জন্যই আমরা যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছি। তিনি বলেন, বড় দলগুলোর হাতে প্রচুর পরিমাণে কালো টাকা রয়েছে। তারা এ টাকা দিয়ে আসন্ন নির্বাচনে জনগণের কাছ থেকে ভোট কিনে নিতে পারে।