মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে দুই হ্যাভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ে আ’লীগ শিবিরে স্বস্তি

মোঃ আরিফ-উল-ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ থেকে
শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলা নিয়ে মুন্সীগঞ্জ-১ আসন। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮১১। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫১, মহিলা ১ লাখ ৭০ হাজার ২৬০ জন। ২০০১ সালের একটি উপ-নির্বাচনে বিকল্প ধারার প্রর্থী মাহী বি. চৌধুরী জয়লাভ করায় বিএনপির ঘরে আঘাত হানে। এ আসনটি ধরে রাখতে তার পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি, বিকল্প ধারার সভাপতি প্রফেসর ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন। অপর দিকে বিএনপি চাচ্ছে আসনটি পনরুদ্ধার করতে। বিএনপির মাঠপর্যায়ে হেভিওয়েট প্রার্থী সংকট থাকায় তা পূরণ করতে জাপা থেকে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে দলে ভিড়ায়ে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। বি. চৌধুরী এবং শাহ্ মোয়াজ্জেম কারও চেয়ে কেউ কম না, দু’জনেরই রয়েছে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, এলাকায় পরিচিতি। বি. চৌধুরী এ আসন থেকে ’৭৯, ’৯১, ’৯৬-এ দু’বার এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি রাষ্ট্রপতি ছাড়াও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা ছিলেন। অপর দিকে শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন ’৭৩ আওয়ামী লীগ এবং ’৮৬ এবং ’৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বঙ্গবন্ধু সরকারের চিফ হুইপ, খন্দকার মোস্তাকের মন্ত্রিসভার সদস্য, ডেমোক্রেটিক লীগের সেক্রেটারি, জাপার মহাসচিব, এরশাদ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এলাকায় দু’জনেরই রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি এবং কর্মীবাহিনী, সেদিক দিয়ে দু’জনই শক্ত প্রার্থী, ভোটযুদ্ধ হবে সমানে সমান। এ দিক দিয়ে আওয়ামী লীগ রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে। বি. চৌধুরী এবং শাহ্ মোয়াজ্জেমের ভোট কাটাকাটিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সুকুমার রঞ্জন ঘোষ বের হয়ে আসতে পারেন বলে তার সমর্থকরা মনে করেন। তিনি এককভাবে সবক’টি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলকে সুসংগঠিত করে রেখেছে এবং একটি ভোট ব্যাংক তার রয়েছে বলে অনেকের ধারণা। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের জন্য আওয়ামী লীগের কাছে এ আসনটি চাইতে পারেন এরশাদ। তিনি এরশাদের সবক’টি মামলার কৌঁসুলি। হাফডজন মামলা থেকে এরশাদকে আইনি লড়ায়ের মাধ্যমে খালাস করান। এরপর থেকে তিনি এরশাদের সুনজরে পড়েন এবং জাতীয় পার্টির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তার পরামর্শ নেন। এরপর থেকে তিনি আলোচনার কেন্দ বিন্দুতে চলে আসেন। এরশাদের দুর্দিনে শেখ সিরাজ পাশে থাকায় এবং জাপা নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাকে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকায় নতুন করে হিসাব পাল্টে দিবে বলে তারা মনে করেন। আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থী ঠিক করে রাখলেও জাতীয় পার্টি মহাজোটে গেলে এ আসনটি তাদের জন্য ছেড়ে দিবেন বলে তারা মনে করেন। জাপা জোটে না গেলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচন করবেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে।