স্যার জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭)

jc-boseএকজন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ও জীববিজ্ঞানী। ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর ময়মনসিংহে তার জন্ম হয়। বাবা ভগবানচন্দ্র বসু ফরিদপুরে একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। প্রথমে ফরিদপুরের গ্রামীণ বিদ্যালয়ে এবং পরে ‘সেন্ট জেভিয়ার্স’ স্কুল ও কলেজে তার ছাত্রজীবন অতিবাহিত হয়। ১৮৮০ সালে বিএ পাস করার পর ওই বছরই তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান। ইংল্যান্ডে তার শিক্ষাকাল ছিল ১৮৮০-৮৪ সাল। ওই সময় কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিজ্ঞানে অনার্সসহ বিএ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি অনার্স পাস করেন। ১৮৮৫ সালে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৮৯৬ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিএসসি উপাধি লাভ করেন।

জগদীশচন্দ্র বসুর গবেষণাকাল তিন পর্যায়ে বিভক্ত। প্রথম পর্যায় : ১৮৯৫-৯৯ সাল, দ্বিতীয় পর্যায় : ১৯০০-১৯০২ সাল এবং তৃতীয় পর্যায় : ১৯০৩-৩২ সাল। তার পর্যায়ভিত্তিক গবেষণার ক্ষেত্র ছিল : বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ, জৈব ও অজৈব পদার্থের উত্তেজনার প্রতি সাড়া প্রদানের ক্ষমতা এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীর পেশির তুলনামূলক শারীরবৃত্ত। ১৯১৬ সালে তিনি অধ্যাপনার কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তারপর দু’বছরের মধ্যে (৩০ নভেম্বর, ১৯১৭) তিনি ‘জগদীশচন্দ্র বসু বিজ্ঞানমন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি সেই বিজ্ঞানমন্দিরে গবেষণা পরিচালনা করেন।

জগদীশচন্দ্র বসুই প্রথম ভারতীয় যিনি ১৯০২ সালে রয়াল সোসাইটির সদস্য নিযুক্ত হন। বিজ্ঞানে বিশিষ্ট অবদানের জন্য তিনি ইংল্যান্ডে ‘নাইট’ উপাধিতে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিএসসি উপাধিতে ভূষিত হন। জগদীশচন্দ্র বসু বেশ কিছু নবতর গবেষণা পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। এগুলোর মধ্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ‘ক্রেস্কোগ্রাফ’ আবিষ্কার এবং অতি সীমিত মাত্রায় নড়াচড়াকে এক কোটি গুণ বিবর্ধন করে দেখানো উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তিনি ঘুম, বাতাস, খাদ্য ও ওষুধ প্রভৃতির প্রভাব প্রদর্শনের জন্য যন্ত্রপাতিও উদ্ভাবন করেন। ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু গিরিডিতে মৃত্যুবরণ করেন। তার স্ত্রী লেডি অবলা বসুর কোনো সন্তান ছিল না। তিনি একজন সমাজকর্মী ছিলেন। জগদীশচন্দ্র বসুর বাংলা রচনাবলী ‘অব্যক্ত’ নামক গ্রন্থে সঙ্কলিত হয়।