মুন্সীগঞ্জে ১৩০০ অপরাধীর তালিকা নিয়ে পুলিশ মাঠে

জেলায় ১ হাজার ৩২০ জন পলাতক দাগি সন্ত্রাসী আসামি ও অপরাধীর তালিকা নিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ। খুন, হত্যা, চাঁদাবাজি, জলদস্যুতা, জমি দখল, অস্ত্রসহ চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পালিয়ে থাকা আসামিদের এই তালিকা তৈরি করেছে সদর থানা পুলিশ। এদের মধ্যে গত তিন দিনে ৩২ জনকে গ্রেফতার এবং চারজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অস্ত্র মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর, ডাকাতি মামলার আসামি মজিবুর,আসলাম,মতি উল্লেখযোগ্য।
জানা যায়, প্রকাশিত তালিকায় মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো: মহিউদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনের নামও রয়েছে। উপজেলার চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়ন ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার তালিকাভুক্ত এসব আসামিরা বর্তমানে পালিয়ে আছেন। কেউ কেউ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পালিয়ে আছেন। পুলিশের হাতে থাকা এসব আসামিদের তালিকা ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে স্খানে টানিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি ইউনিয়নগুলোর ইউপি কার্যালয়ে, হাট-বাজারে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সদর উপজেলার আওয়ামী লীগ, বিএনপি’র দুই শতাধিক নেতাকর্মীর নাম এই তালিকায় স্খান পেয়েছে। তা ছাড়া চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি, আধারা, চরকেওয়ার, শিলই ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য,পদ্মা-মেঘনা নদীর কুখ্যাত জলদস্যু, রাজনৈতিক দলের কর্মী মিলে পাঁচ শতাধিক আসামিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। শহরের চাঞ্চল্যকর ছাত্রলীগ সভাপতি তাসমিম-উজ-জামান তাপস খুনের আসামি শরীফ খালাসি, আনোয়ার লিটন, ডা. ইকবাল ওরফে বেরহম মতি এবং অপর চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মধ্যে যুবলীগ কর্মী আবুল কালাম আজাদ রাজা খুনের আসামি হীরা, ঝিনুক দুই সহোদরের নাম রয়েছে এ তালিকায়। এ ছাড়া শহর ছাত্রদলের সভাপতি আক্তার হোসেন স্বপন অস্ত্র মামলায় পলাতক হিসেবে এই তালিকায় স্খান পেয়েছেন।
অন্য দিকে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিএনপি’র কর্মী, হত্যা, খুনসহ বহু মামলার আসামি চরকেওয়ার ইউনিয়নের আমিরা, জামিরা, উজ্জ্বল, মহসিন, ইকবাল; আওয়ামী লীগের আতা ও মোতা তালিকাভুক্ত রয়েছেন। আধারা ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান রহমত আলী মোল্লার ছেলে মোক্তার ছাড়াও জলদস্যু ডালিম দেওয়ান ওরফে কানা ডালিম, জসীম, মনির, তসলিম, ফারুক, কালু, খোকন ও বাংলাবাজারের মহিউদ্দিন কাশেম, সায়েদুল ও আবু বকরের নাম রয়েছে তালিকায়।
প্রকাশিত এ তালিকা প্রসঙ্গে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এ নেওয়াজী পিপিএম জানান, এসব আসামিদের সামাজিকভাবে বয়কট করার জন্য তালিকাভুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি এবং পুলিশের গ্রেফতার অভিযান সহজতর করতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এরা সমাজ ও দেশ-জাতির জন্য অভিশাপ। তিনি আরো জানান, প্রতি এক রাত পর পর এএসপি সদর সার্কেল মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গ্রেফতার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।