চার্লস টমলিনসন হৃদয়ে চিত্রকর

সরকার মাসুদ
রবার্ট ব্লেক কিংবা রবীন্দ্রনাথের মতো শিল্প স্রষ্টারা কেবল শব্দনির্ভর আর্টের চর্চাই করেননি, আক্ষরিক অর্থেই তারা ছবিও এঁকেছিলেন; ঠিক যেমনটি করেছিলেন কাহলিল জিবরানও। অন্যদিকে পৃথিবীতে এমন কবিও আছেন যারা ছবি আঁকেননি; কিন্তু তাদের কবিতা হয়ে উঠেছে চিত্রশিল্পের বিকল্প। এ ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার কবিদের মধ্যে আমরা জীবনানন্দকে সবার আগে রাখতে পারি। তার কবিতায় জগৎছবি যেভাবে সাফার হয়ে উঠেছে, বিশেষভাবে ‘রূপসী বাংলা’ কবিতা বইয়ে আবহমান লোকাচার, লোকবিশ্বাস ও পুরাণ প্রসঙ্গের পাশাপাশি গ্রাম-বাংলার ভূ-দৃশ্য যতখানি দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপিত, তাতে তাকে অন্যরকম এক চিত্রকর বলাই যায়। হৃদয়ে এক চিত্রীর বাস না থাকলে অত নিখুঁতভাবে জল-স্থলছবির বর্ণনা দেয়া সম্ভব নয় কারো পক্ষে। নিকট অতীতে বাংলা ভাষার এ রকম কবির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আলোক সরকার। বিদেশি কবিদের মধ্যে এ ঘরানার সফল কবি হচ্ছেন রবার্ট ফ্রস্ট, উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, টমাস ট্রান্সট্রোমার, জেমস রাইট, চার্লস টমলিনসন প্রমুখ।
আমাদের আজকের আলোচনা চার্লস টমলিনসন (১৯২৭)-এর কবিতা ঘিরে। ইংল্যান্ডের এ কবি অবশ্য শুধু কবিতাতেই ছবি আঁকেননি আক্ষরিক অর্থেও ছবি এঁকেছিলেন। তার মানে ব্লেক-জিবরানদের মতো তিনিও একাধারে কবি ও চিত্রী। কোনো সন্দেহ নেই, তার এ দ্বৈতসত্তার একটি অন্যটির পরিপূরক। একটি মাধ্যমের গুণাগুণ অন্যটিকে কমবেশি প্রভাবিত ও বৈশিষ্ট্যম-িত করে তুলেছে। চার্লসের কবিতা সূক্ষ্ম দৃষ্টি, শুদ্ধ স্বর আর কথা বলার প্রভাবসম্পাতী গভীর এক ভঙ্গির জন্য বিশিষ্ট। তিনি ইন্দ্রিয়নির্ভর চেতনাকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বস্তুবিশ্বের সঠিক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার ভেতর দিয়ে প্রতিভাসিত হয়েছে তার গভীরতাআশ্রয়ী কবিস্বভাব। এ স্বভাবটিই আবার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে তার কাব্যভাষাÑ ‘সমস্ত দৃশ্য সরে সরে যায়/ সময়ের মধ্যবর্তী মুহূর্তের দূরত্ব/ নীল আরো নীল/ পাইন গাছের শাখা/ সজোরে টেনে নিচ্ছে দৃষ্টি/ ফিরে আসছে ধূসর নীল/ নীল-কালো কিংবা হলুদ রঙের বিভা ফিরে আসে কেবল/ বর্ণিল পাইন শাখায়।’ (পার্থক্যগুলো)
এ কবিতায় দৃশ্য আর রঙ একটি কুহক তৈরি করেছে। সময়ের বোধ তাতে যোগ করেছে সমুচিত ব্যঞ্জনা। টমলিনসন নিজের কবিতা ভাষাকে একান্ত ব্যক্তিগত শৈলী সৃষ্টির কাজে লাগিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই এমনভাবে কথা বলেছেন যে, মনে হবে সাধারণ লোকের ভাষা থেকে আহরিত হয়েছে কাব্যের এ ব্যক্তিভাষা। হ্যাঁ, তা আরো ভালো করে বোঝা যায় যখন ভাঙা কিংবা আধভাঙা লাইনের ভেতর জমে ওঠে অনুভূতির আলো-ছায়াÑ ‘ঠা-া/ জানুয়ারির সূর্য/ এক অনিশ্চিত তীব্রতায়/ সমুদ্রের অস্তিত্ব/ সৃষ্টি করে চলে আরো বেশি সঠিকতা/ ছন্দের মধুর ছলনা/ আর ঘাসের ওপর/ পড়ে থাকে/Ñ এমনকি, গভীর ক্যালিফোর্নিয়ার সবুজ’ (আইডল)।
‘উত্তরের বসন্ত’ নামে টমলিনসনের একটি বিখ্যাত কবিতা আছে। কী দেখতে পাই এখানে? দেখি জীবনবাদী এক বসন্ত সূর্যকে। এ সূর্য শীতল ভূমির ওপর নবজীবনের প্রেরণা নিয়ে আসে। জীবনের এই পজিটিভিটি, এ শুভ সুর উঠে এসেছে অমলিন বর্ণনার ভেতর দিয়ে। এবং এখানেও আকার (বস্তু) ও নিরাকার (রঙ, আলো)-এর ধারণা হৃদয়গ্রাহী এক চেতনাবিন্দুতে এসে মিলেছে। ভাবুক মনের ওপর রঙ ও ঋতুর ক্রিয়াশীলতা এ কবিতায় বিশেষ লক্ষণীয়Ñ ‘আকাশ যেন উদ্ভাসিত করে তোলে নীল,/ আরো বেশি স্থির স্বরের প্রতিজ্ঞায়/ রাঙা হলো ঘাস,/ সুস্থির তাড়না, তারপরও, ছড়িয়ে দিয়েছে মেঘদল/ মেঘেদের ছায়া এরই মধ্যে নষ্ট করে দিচ্ছে ঘন সবুজতা।’
চিত্রশিল্পীদের বেলায় মুখ্যত রঙ ও রেখাই ভাবের বাহন। টমলিনসন অন্তরে এক চিত্রশিল্পী পোষেণ বলেই, নানা রঙের সমাহার ঘটিয়েছেন তার কাব্যে। সেজন্য সবুজ, নীল, ধূসর, ধূসর-নীল, হলুদ, নীল-কালো প্রভৃতি বর্ণের পৌনঃপুনিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় তার কবিতায়। আর এসব রঙের শুধু উপস্থিতিই নয়, এসবের দ্বারা সৃষ্ট ভাবদ্যোতনাও চার্লস-এর কবিতাকে সমৃদ্ধ করতে প্রভূত সাহায্য করেছে। টম লিনসনের কবিতা এতদসত্ত্বেও ঠিক চিত্রকলা নয়; আবার তা বস্তু কিংবা পরিবেশের নির্ভেজাল বর্ণনাও নয়। বরঞ্চ পেইন্টিংয়ের রঙ-রেখা আর বস্তুবিশ্বের ডিটেলÑ এ দুয়েরই প্রভাব লক্ষ্যযোগ্যভাবে প্রযুক্ত হয়েছে তার কবিতায়। আমার এও মনে হয়, প্রায়ই এ দুটি জিনিসকেও ছাড়িয়ে গেছে তার কবিতাÑ ছাড়িয়ে বর্ণ বৃত্তান্ত নিরপেক্ষ এক সুগভীর চিন্তালোকে পৌঁছে গেছে; কবিতা যেখানে কেবলই পাঠযোগ্য বিনোদি একটি মাধ্যম নয়, তার চেয়েও বেশি অনুভবযোগ্য ও গভীর আনন্দপ্রদ বিষয়। সে কারণে তিনি বলতে পেরেছেন ‘সঠিক একটি ভূগোল/ সমস্ত সম্পর্কের মধ্যে নিজেকে সম্পন্ন করে/ যেখানে সুষমা আর স্থিরতা/ হয়ে ওঠে সমান মূল্যবান।’
অন্যত্র, যেমন ‘জন কনস্টেবলকে নিয়ে ভাবনা’ কবিতায়, দৃশ্য বর্ণনা ও বাস্তবধর্মী ডিটেল অতিক্রম করে টমলিনসন তাৎপর্যপূর্ণ বাণীর দিকে এগিয়েছেন। সেই ধরনের উচ্চারণকে অঙ্গীভূত করে নিয়েছেন, যা সচরাচর দার্শনিকসুলভ ভাবনার অধিকারী কবিদের বেলায়ই বেশি প্রযোজ্যÑ ‘দীপ্তিহীনতার বিষয়টি আকস্মিক/ প্রথমে তা গিলে খায় অন্ধকার/ অতঃপর মেঘাবৃত আকাশে ফিরে আসে দীপ্তিহীনতা।’ ওই একই কবিতার শেষে আছে এ রকম উচ্চারণ ‘শিল্পীর অস্তিত্ব থেকে যায়/ সত্যের অগ্রগতির গরজে। তার কথা বিশ্বাস করো। এ এক সার কথা। এবং তা সত্যসন্ধ বাণীর তাৎপর্যে ভরা। শিল্পী মানুষ অবশ্যই বাস্তবতার ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন না। তিনি বরং বাস্তবতাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বিচার করেন। আর সেখান থেকে অভিজ্ঞতার নির্যাসটুকু নিয়ে জীবনের গভীরতর সত্যের দিকে অগ্রসর হন। তার সৃষ্টিশীল চোখের ক্যামেরায়, হৃদয়ের বড় খাতায় একে একে ধরা পড়ে যায় বিশ্বপ্রকৃতির সবকিছু। সেখান থেকে কবি/ শিল্পী বাছাই করে নেন তার মানসতার উপযোগী বিষয়-আশয় এবং প্রাসঙ্গিক উপাদানগুলো। এ মুহূর্তে আমার মনে পড়লো কনস্টেবলের আঁকা একটি ছবির কথাÑ উপরে আকাশ, তাতে পুঞ্জীভূত ও ছড়ানো মেঘ। নিচে খালের ধারে নৌকা বানানো চলছে। পাশে মেঘের মতো জমাট, ঘন, ঝাকড়া গাছ। এত নিখুঁত এবং স্নিগ্ধতা মেশানো এ কাজ যে, দেখে মন ভরে যায়। ল্যান্ডস্কেপ অঙ্কনের ক্ষেত্রে ইংরেজ ঐতিহ্যের পুনর্নির্মাণ করেছেন এ শিল্পী। প্রকৃতি ও দৃশ্যবাস্তবতার প্রতি নির্ভেজাল আনুগত্যেরই পরিচয় বহন করে এ ধরনের কাজ। টমলিনসনের কবিতায় বিধৃত মেঘ কিংবা গাছ কিংবা ঘন শ্যামলিমা, যেমনটা দেখা যায়Ñ অ গবফরঃধঃরড়হ ড়হ ঔযড়হ ঈড়হংঃধনষব অথবা ঝঢ়ৎরহম কবিতায়, যেন ওই শিল্পীরই আঁকা মেঘমালা কিংবা বৃক্ষপল্লব।
‘মেঘপুঞ্জ,/ অন্য সবার দ্বারা অনুসরণযোগ্য, অতিক্রম করে যেতে যেতে/ মেজাজি করে তোলে সূর্যকে।’
দশ/বারোটি কাব্যগ্রন্থের জনক চার্লস টমলিনসন। এর মধ্যে ‘সিলেকটেড পোয়েমস’ বা ‘কালেকটেড পোয়েমস’ জাতীয় বইও আছে। উল্লেখযোগ্য কবিতার বইগুলো হচ্ছেÑ ঝববরহম রং নবষরবারহম (১৯৬০), অ ঢ়বড়ঢ়ষবফ ষধহফংপধঢ়ব (১৯৬৩), ঞযব ধিু ড়ভ ধ ড়িৎষফ (১৯৬৯), ডৎরঃঃবহ ড়হ ধিঃবৎ (১৯৭২), ঞযব ধিু রহ (১৯৭৪) এবং ঞযব ংযধভঃ (১৯৭৮)। এগুলো ছাড়াও ১৯৬৬ সালে অসবৎরপধহ ংপবহবং নামে তার আরেকটি কাব্যগ্রন্থ বেরিয়েছিল। এ বইটিতে এবং ঞযব ধিু রহ-এ বিদ্রƒপের সুর লক্ষ্য করা যায়। ঝববরহম রং নবষরবারহম এবং ঞযব ংযধভঃ নামের বই দুটি লেখকের নিজের অবলোকিত পৃথিবীর প্রতি আস্থা ও সংশয় ব্যক্ত করেছে বারবার। অ ঢ়বড়ঢ়ষবফ ষধহফংপধঢ়ব এবং ডৎরঃঃবহ ড়হ ধিঃবৎ-এ ভূ-দৃশ্য এবং তার অধিবাসীদের মধ্যকার মানস সম্পর্ক সৃষ্টিতে লেখক তৎপর। লেখকের এই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসে মিলেছে ইতিহাসের বোধ ও সময় চেতনা, আরো নির্দিষ্ট করে বললে, মুহূর্ত চেতনা। সময়ের প্রতি মানুষের বিচিত্র মানসতা, মনের আবহাওয়ার পরিবর্তনের মুহূর্ত, দৃশ্যমান প্রকৃতি এবং কবিজনোচিত ভাবুকতার ওপর এসবের প্রভাব আর এ প্রভাবজনিত প্রতিক্রিয়া যদিও টমলিনসনের জীবনের বিভিন্ন পর্বের কবিতায় উঠে এসেছে, তা সত্ত্বেও এইমাত্র উল্লিখিত কাব্যগ্রন্থ দুটিতে এসব বৈশিষ্ট্য জোরালোভাবে উপস্থিত। ফরাসি আধুনিকদের এক প্রতিনিধি কবি স্য ঝন পার্স চেয়েছিলেন বস্তুর আত্মাকে আবিষ্কার করতে। ইংরেজ কবি চার্লস টমলিনসনও বস্তুর ভেতরের সত্তাকে অনুধাবনের গরজে তাকে নতুন ভঙ্গিতে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন বারবার। এ ক্ষেত্রে গভীর এক ইন্দ্রিয় পরায়ণ চেতনাকে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। এই প্রক্রিয়ায় মানবজগৎ ও নিসর্গজগতের প্রতীকী সারল্য আর বিচিত্র বর্ণিল জটিলতাযোগ্য ভাষা পেয়েছে। বস্তুবিশ্ব ও মানববিশ্ব কীভাবে এক সূত্রে গ্রথিত হয়েছে, কীভাবেই বা বাণীবদ্ধ হয়েছে সেসব একান্ত ব্যক্তিগত অনুভব, তার দু-একটি উদাহরণ দেয়া যাকÑ
ক. বরফের স্তূপ/ চুনাপাথরের সিঁড়ি/ হাড্ডিসার ভূ-দৃশ্য/ বেড়ে ওঠে শরীরী অস্তিত্ব নিয়ে
খ. অস্পষ্টতা আর গভীরতা/ তার সাথে আছে স্বচ্ছ অতিক্রমণ/ পাথরের রূপকথার বই/ পাতাহীন পাথরের বই…
যে কবি একই সঙ্গে চিত্রকরও তার কবিতায় চিত্রভাষা এবং চিত্রশিল্পে কবিতার ভাষা প্রবিষ্ট হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রঙ আর ভাষা উভয়েই আসলে বস্তু কিংবা ধারণাবাচক কোনো কিছুর প্রতীক। এই প্রতীকের সাহায্যেই কবি ও চিত্রীরা ইমেজ সৃষ্টি করে চলেন। বাস্তবতার ও পারিপার্শ্বিক ভুবনের নানা উপাদান, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল মনের ভাবের সংমিশ্রণের কারণে কবিতা এমন এক ভাবমূর্তি ধারণ করে যেখানে ‘বিমূর্ত’ শব্দটি তার যোগ্য মর্যাদা পেয়ে যায়। অ্যাবস্ট্রাকশনের এ পথ ধরেই একজন চিত্রী কিংবা কবি তার ভাষাকে ছাড়িয়ে অন্যতর ব্যঞ্জনা অন্বেষণ করেন; পেতে এবং দিতে চান অনির্বচনীয়ের স্বাদ। সেজন্য আমরা দেখি, শিল্প সৃষ্টির ক্ষেত্রে একজন কবির সমস্যা আর একজন চিত্রকরের সমস্যা মোটামুটি অভিন্ন। টমলিনসন যে শখের বশে কিংবা খেয়াল চরিতার্থ করার জন্য ছবি এঁকেছেন তা নয়।
আত্মরক্ষার স্বার্থেই তাকে এ কাজ করতে হয়েছে। পরন্তু অপরাপর ব্যক্তিরা তার চিত্রকর্ম কে কীভাবে নেবেন এ চিন্তাও ছিল তার মধ্যে। এবং সে কারণেই ১৯৪৮ ও ১৯৫০ সালে লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে তার ছবির দুটি প্রদর্শনী হয়। ১৯৫১-তে ইতালিতে থাকার সময়ও তিনি অনেক ছবি এঁকেছিলেন। বছরের শেষের দিকে তার এ আকাক্সক্ষায় ভাটা পড়ে। আবার ৭-৮ বছর পর একটা জোয়ার আসে। তখন অনেক ছবি আঁকা হয়। ৪২-৪৩ বছর পর্যন্ত তিনি আঁকাআঁকির কাজটা করেছিলেন। ষাটের দশকের শেষ দিক পর্যন্ত তিনি ছবি এঁকেছেন, বেশ কিছু ড্রয়িং করেছেন যার বেশিরভাগই সাদা-কালো। তার ছবিতে পরাবাস্তব ভাবের সুমিত প্রকাশ ঘটেছে অসংখ্যবার। কবিতার মতো ছবিতেও তিনি অন্তর্মুখী। গভীর নৈর্ব্যক্তিক ভাবনার স্বরুচিসম্মত অভিব্যক্তি লক্ষ্য করা যায় তার এসব কাজের মধ্যে।
টমলিনসন অবশ্য কবিতার ক্ষেত্রেই অনেক বেশি সফল। ছবির চেয়ে তার কাব্যের গভীরতা, গাম্ভীর্য ও আবেদন আমাদের স্পর্শ করেছে বেশি করে। ব্যক্তিবিশেষের বর্ণনা কিংবা পারিপার্শ্বিকতার ডিটেলও তার কলমের গুণে প্রাতিস্বিক ও মনোগ্রাহী হয়ে ওঠে ঠিক যেমনটা ‘পাহাড়’ (ঞযব ঐরষষ) নামের কবিতায় দেখতে পাইÑ ‘প্রবহমান প্রতিবন্ধকতার বিপরীতে/ সে ঝুঁকে থাকে চলমান/ সাবলীল হাঁটার মতো সহজ/ তার ব্রিজের হেলান দেওয়ার মতো ভঙ্গি। তাকে পরাজিত করেছে ভাবাতুর ভেতর বাড়িতে।’
চার্লস টমলিনসন একই সঙ্গে কল্পচিত্রপ্রধান ও চিন্তাশীল কবি। তিনি যখন শুধুই চিত্রপ্রধান, তখনো জগৎ-সংসার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি ভাবগম্ভীর। তার কাব্যিক ভাষ্যে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে মানুষ ও প্রকৃতির ভেতরের অন্তঃসম্পর্ক, অনুভূতিশীলতা। জীবনদর্শন এবং শিল্পপ্রতীতি উভয় দিক থেকেই তিনি অগ্রসর ভাবুক, যাকে বিশিষ্টতা দিয়েছে শক্তিমন্ত্র কল্পনা আর পরিশুদ্ধ হৃদয়াবেগ।