সুরের খেয়ায় চড়ে…

< ![CDATA[ferdous-habibসুরের মাঝেই হাবিব-এর বেড়ে ওঠা। বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদ এই বয়সেও পুত্রের সঙ্গে গাইছেন সমানতালে। ফেরদৌস ওয়াহিদের পরিচয়ে নয়, হাবিব তার সংগীতের স্বাতন্ত্র দিয়ে শ্রোতাদের মাঝে নিজের আলাদা একটি অবস্থান তৈরি করেছেন। অসম্ভব সংগীতপাগল এই দু’শিল্পী সম্প্রতি এক আড্ডায় বলেছেন গান নিয়ে অনেক কথা। আর তাদের আলাপচারিতার উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ে লিখেছেন রকিব হোসেন

বাবার রক্ত শরীরে প্রবাহিত হলেও তার সঙ্গে হাবিবের মতের পার্থক্য অনেক। ফেরদৌস ওয়াহিদের কাছে যখন দুপুর, হাবিবের আকাশে তখন ভোরের সূর্য উঠে। পূর্বনির্ধারিত সময়ে আমরা হাজির হয়েছিলাম হাবিবের বাসায়। ফেরদৌস ওয়াহিদ যথাসময়ে আড্ডাস্থলে হাজির হলেও দুপুর ১২টায়ও যেন ভোরের সূর্য উঁঁকি দেয়নি হাবিবের দোরগোরায়। বাবার কণ্ঠস্বর শুনতেই ঘুমের রাজ্য থেকে ফিরে আসেন হাবিব। অনেকটা জোর করেই ড্রয়িং রুমে এসেই চোখ খুললেন হালের ব্যস্ত এই সংগীতশিল্পী। গরম চায়ের চুমুকে চুমুকে জমে ওঠে গল্পের আসর। কে বেশি জনপ্রিয়, হাবিব ওয়াহিদ না ফেরদৌস ওয়াহিদ? খানিকটা ভাবনায় পড়ে গেলেন পিতা-পুত্র। চোখাচোখি হতেই দু’জনই হো হো করে হেসে উঠেন। তারপর দু’জন দু’জনার দিকে তাকিয়ে প্রথমেই মুখ খুললেন হাবিব, ‘আমার বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদ বেশি জনপ্রিয়।’ হাবিবের কথা শেষ হতেই ফেরদৌস ওয়াহিদ বললেন, ‘না না আমি নই, হাবিব বেশি জনপ্রিয়।’ বাবার কথায় একমত হতে পারলেন না হাবিব। পাল্টা বললেন, ‘অসম্ভব, আমি নই, আমার বাবাই অনেক বেশি জনপ্রিয়।’ হারতে রাজি নন ফেরদৌস ওয়াহিদ। আবার তিনি বললেন, ‘অবশ্যই হাবিব আমার চেয়ে বেশি জনপ্রিয়।’ বাপ-বেটার এই বাকযুদ্ধ অনেকক্ষণ ধরে চলছিল। কিন্তু সঠিক উত্তর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অবশেষে এই প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলাম অন্য প্রসঙ্গে। আচ্ছা, বর্তমান গানের মান কেমন আপনাদের কাছে? স্বভাবসুলভ হেসে হাবিব বললেন, ‘মাঝে আমাদের সংগীত ভুবনে কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করেছিল। তারপর কিছু ভাল শিল্পী এবং সংগীত পরিচালকের কারণে আমাদের সংগীত এখন ভালোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত। আর এই পরিবর্তনের সাথে যারা সম্পৃক্ত, আমিও তাদের একজন। সংগীতের মতো দেশীয় চলচ্চিত্রেও একটা পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ভাল বাণিজ্যিক ধারার ছবি নির্মিত হচ্ছে। আর এর মাধ্যমে ভাল কিছু গান ছড়িয়ে পড়েছে শ্রোতাদের মাঝে। এখনো দেশের মানুষ গান শুনতে, ছবি দেখতে পছন্দ করেন।’ হাবিবের সুরে সুর মিলিয়ে ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘আমিও মনে করি, এখনকার গানের মান বেশ উন্নত। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা গানের কথা সুর ও সংগীতের বৈচিত্র্য আনছে। গানটাকে তারা সিরিয়াসলি নিয়েছে। নতুনদের নতুন নতুন সৃষ্টি আমাকে নতুন আলো দেখাচ্ছে। ভাল লাগে সংগীতাঙ্গনের সমৃদ্ধি দেখে।’ অনেকে অভিযোগ করেন হাবিব ওয়াহিদ কাজের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত পারিশ্রমিক নেন। ভাল বাজেটের অভাবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকে আপনার সঙ্গে কাজ করার সাহস পান না। এমনটি কেন? অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হাবিব ওয়াহিদ তার সরল স্বীকারোক্তি দিলেন এভাবে, ‘প্রত্যেকটি মানুষই জীবনধারণের জন্য একটা পেশা বেছে নেয়। আর এজন্য তার প্রয়োজন হয় ভাল একটি আয়ের। মাসিক একটা বাজেট অনুযায়ী আমাকে চলতে হয়। আর তার জন্য আমি দশটা কাজ না করে যদি একটা কাজের মাধ্যমে পারিশ্রমিক নিই, এতে করে কাজটাও ভাল হয়। কারণ ক্রিয়েটিভ কাজের জন্য প্রচুর সময়ের প্রয়োজন হয়। অল্প সময়ে, মাথায় অর্থনৈতিক চিন্তা নিয়ে কখনো ভাল কাজ করা যায় না। আমি এই বিষয়টি ভালভাবে বিবেচনা করেই কোন কাজ করার আগে আমার যথাযথ পারিশ্রমিক চাই। উদাহরণস্বরূপ বলি, আমাদের দেশে ভাল একটি বিজ্ঞাপনের বাজেট প্রায় অর্ধ কোটি। একটি বিজ্ঞাপন প্রচারের পর তা হিট হওয়ার পেছনে ফিফটি পার্সেন্ট কৃতিত্ব থাকে জিংগেলের কিংবা মিউজিকের। সেক্ষেত্রে নির্মাতারা মিউজিক ডিরেক্টরকে তাদের বাজেটের টেন অর ফিফটিন পার্সেন্ট পারিশ্রমিক দেবে না কেন? তাছাড়া আমি আমার গান কিংবা মিউজিক দিয়েতো অন্যকে অনেক ব্যবসায়িক প্রফিট এনে দিয়েছি। তার অনেক প্রমাণ আছে। সবাই জানে। তাহলে একটা ভাল কাজের জন্য আমাকে ভাল পারিশ্রমিক দিতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কেউ কী বলতে পারবে আমাকে দিয়ে কাজ করানোর পর তার প্রোডাকশনটা ফ্লপ হয়েছে?’ একটু দম নিয়ে হাবিব আরো বলেন, ‘আর কনসার]]

>