মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিশ্চিত অনিশ্চয়তায় চারদলীয় জোট

গোলজার হোসেন, মুন্সীগঞ্জ
সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত হলেও চারদলীয় জোট এখনো তাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে চারদলীয় জোটপ্রার্থীরা হতাশায় ভুগছেন।

নতুন সীমানা নির্ধারণ করায় মুন্সীগঞ্জে একটি আসন কমে গেছে। আসন কমে যাওয়ায় এবং জোট-মহাজোট নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বিভিন্ন দলের নেতাদের ভোটের হিসাবনিকাশও পাল্টে গেছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা রয়েছেন দ্বন্দ্ব আর উৎকণ্ঠায়। একই সঙ্গে দলের মনোনয়ন পেতে চলছে জোর লবিং। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ধরনা দিচ্ছেন শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাছে। এদিকে চারদলীয় জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মতৎপরতা নেই বললেই চলে।

মুন্সীগঞ্জ জেলায় নতুন নির্বাচনী সীমা ঘোষণা হওয়ার পর আসনসংখ্যা ৪ থেকে কমে ৩

হয়েছে। আসনগুলো হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলা), মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলা) এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ (মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলা)।

আসন কমে যাওয়ায় গতবার মনোনয়ন পাওয়া দলীয় নেতাদের মধ্যে একজন বাদ যাবেন। মনোনয়ন দৌড়ে কে পিছিয়ে পড়েন এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে উৎকণ্ঠা।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা অথবা বিএনপি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে মিজানুর রহমান সিনহা মুন্সীগঞ্জের কোনো আসন থেকে মনোনয়ন নাও পেতে পারেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে মনোনয়ন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। এর আগে মিজানুর রহমান সিনহা মুন্সীগঞ্জ-২ থেকে পরপর দুবার এমপি নির্বাচিত হন। তাই তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চালাচ্ছেন। কিন্তু সাবেক মন্ত্রী এম শামসুল ইসলামও মুন্সীগঞ্জ-২ থেকে নির্বাচন করতে চান। যদিও এম শামসুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে আগে তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিকল্পধারার মাহী বি. চৌধুরী উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মমিন আলীকে পরাজিত করেন। মমিন আলী পরাজিত হওয়ার পর জাতীয় পার্টির নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বিএনপিতে যোগ

দেন। ২২ জানুয়ারি ২০০৬-এর বাতিল হওয়া নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। যদি মিজানুর রহমান সিনহা মুন্সীগঞ্জ-২ থেকে মনোনয়ন পান সে ক্ষেত্রে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকার কোনো একটি আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে জেলা বিএনপি সভাপতি আবদুল হাই ৫ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার মনোনয়ন পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি কামাল দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন পলাতক থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। দুদকের মামলায় তিনি পলাতক এবং দুটি মামলায় ইতিমধ্যে তার ২০ বছর সাজাও হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে ২০০১-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। তিনি তখন বিএনপির প্রার্থী ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। এবারের নির্বাচনেও সুকুমার রঞ্জন ঘোষ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। বিকল্পধারা থেকে মাহী বি চৌধুরীও প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বিকল্পধারার সভাপতি ডা. বি চৌধুরী মুন্সীগঞ্জ-২ ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে প্রার্থী হবেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। ২০০১-এর নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বিএনপির মিজানুর রহমান সিনহার কাছে পরাজিত হন। বিকল্পধারা মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে মুন্সীগঞ্জ-২ থেকে সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ-৩ থেকে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব এম ইদ্রিস আলীর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট। তিনি নতুন মুখ হলেও অনেক আগে থেকে এলাকায় তৎপরতা চালিয়ে আসছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। জেলা জাপার সদস্য সচিব কুতুবউদ্দিন আহম্মেদ মুন্সীগঞ্জ-২ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। আর জাপার সহসভাপতি ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুন্সীগঞ্জ-৩ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।