প্রাইভেট পড়লে মেলে নমুনা প্রশু, ভালো ফলের নিশ্চয়তা

মামুনুর রশিদ খোকা, মুন্সীগঞ্জ
শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা পেতে হলে ছাত্রছাত্রীদের ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যšø দিতে হয়। বিনামহৃল্যের বই বিতরণের সময় ৯৬ শতাংশ ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে গড়ে ১৫ টাকা হারে ‘পরিবহন খরচ বাবদ’ আদায় করা হয়। বৃত্তি পরীক্ষার কোচিং ক্লাসের ফি বাবদ ১০০ থেকে ২০০ টাকা দিতে হয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের।
প্রথম শ্রেণীতে অতিরিক্ত ফি গড়ে ১৫ টাকা, ™ি^তীয় শ্রেণীতে ১৫ টাকা, তৃতীয় শ্রেণীতে ১৮ টাকা, চতুর্থ শ্রেণীতে ১৮ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণীতে ৩৬ টাকা ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করে থাকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জরিপে বলা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়লে পরীক্ষার আগেই প্রশুপত্রের নমুনা পাওয়া যায়। নিশ্চয়তা দেওয়া হয় ভালো ফলের। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সহযোগী সংগঠন সনাকের এক জরিপ প্রতিবেদনে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাতের এমন বেহাল চিত্র ফুটে উঠেছে।

রোববার দুপুরে শহরের মানিকপুর এলাকায় জেলা সচেতন নাগরিক কমিটি সনাকের কার্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা খাতের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নানা সমস্যার চিত্র তুলে ধরে একটি রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করা হয়। টিআইবির সহযোগিতায় সনাক চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যšø এক গবেষণা জরিপ শেষে রোববার সাংবাদিক, শিক্ষক, সুশীল সমাজের নেতারাসহ বিভিল্পু পেশাজীবীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষা খাতের অপর রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করে। এ সময় উপস্টি’ত ছিলেন জেলা সনাক আহ্বায়ক অধ্যাপক অনীল কুমার চত্রক্রবর্তী, টিআইবির ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা ওয়াহিদ আলম, প্রতিবেদন প্রণেতা টিআইবির এএম শামসুদ্দৌলা, শিক্ষক কমিটির আহ্বায়ক খালেদা খানম, মুন্সীগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মোঃ আলী নাসিম, সনাক সদস্য অ্যাডভোকেট গিয়াসউদ্দিন পিন্টু প্রমুখ প্রকাশিত জরিপ স¤ক্সর্কে মতামত পেশ করে বক্তৃতা করেন।

সনাকের জরিপ রিপোর্ট মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির শুরুতেই একজন ছাত্রছাত্রীকে ভর্তি ফি বাবদ ৫-৩০ টাকার চাঁদা বা ঘুষ দিতে হয়। এছাড়া বার্ষিক ত্রক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ফি বাবদ ১০ থেকে ৩০ টাকা, পরিষ্ফ‹ার-পরিচ্ছল্পুতায় ২ থেকে ১০ টাকা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ৫ থেকে ১০ টাকা, বিভিল্পু দিবস উদযাপনে ৫ থেকে ১০ টাকা, সাংস্ট‹ৃতিক অনুষ্ঠানে ৫ থেকে ১৫ টাকা প্রদান করতে হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ূয়া ছাত্রছাত্রীদের। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের বার্ষিক পরীক্ষা নল্ফ^রপত্র পেতে ১০ থেকে ৩০ টাকা এবং বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট পেতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে দিতে হয়।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ সদর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসিরউদ্দিন আহল্ফেদ সমকালকে বলেন, এমন অনিয়ম, দুর্নীতি স¤ক্সর্কিত কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। কখনো কেউ আমার কাছে আসেননি যে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। সনাকের জরিপ প্রতিবেদন স¤ক্সর্কেও তার কিছু জানা নেই বলে তিনি মšøব্য করেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলার বানিয়াল কাইজ্যারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নহৃর মোহাল্ফদের দৃিদ্ব আকর্ষণ করা হলে তিনি কোনো মšøব্য করেননি। তবে কেওয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহাবউদ্দিন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা খাতটি বেশ বড়। সেখানে দু’একটা দুর্ঘটনার মতো অনিয়ম ঘটতে পারে। কিন্তু মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাতের দুর্নীতি অনিয়ম বা বেহাল চিত্রের কথা সত্য বলে মনে করি না। অপরদিকে সরকারি হিসাব মতে, ৫০ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য ১ জন শিক্ষক থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু মুন্সীগঞ্জ সদরে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট চলছে।

[ad#co-1]