সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যস্ত গণসংযোগে

মাহাবুব আলম লিটন, মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনে সাম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন। বড় দুইদলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যì গ্রামের সর্বত্রই নির্বাচনের হাওয়া বইছে। এবার প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা সবকিছুরই চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন ভোটাররা।
এবার নতুন সীমানা নির্ধারণের ফলে মুন্সীগঞ্জের ৪টি আসন থেকে একটি আসন কমে গেছে। নতুন সীমানায় মুন্সীগঞ্জ-৪ আসনটি বিলুপ্ত হয়ে মুন্সীগঞ্জ-৩ হয়েছে গজারিয়া ও মুন্সীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আবদুল হাই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মহিউদ্দিনকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। এই আসনে আবদুল হাই ৯৩ হাজার ৭৯৫ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মো. মহিউদ্দিন পান ৮০ হাজার ৪৪৭ ভোট। ফলে অষ্টম সংসদের মেয়াদ শেষ না হতেই আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড আসনটির দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়।
বিএনপি চায় আসন ধরে রাখতে আর আওয়ামী লীগ চাচ্ছে তাদের দীর্ঘ দিনের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে। এ লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা হাইকমান্ডের নির্দেশ ও সবুজ সংকেত পেয়েছেন। কাজও করছেন পুরোদমে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪৩টি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩৪টি এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ১লাখ ২৬ হাজার ৯০৯।
এই আসনে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বিশিষ্ট শিল্পপতি হাফিজুর রহমান খান মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। তিনি গজারিয়া উপজেলার বাসিন্দা। মুন্সীগঞ্জের ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এবং গজারিয়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসনটি গঠিত। ১৯৭৩ সালে গজারিয়া থেকে অধ্যাপক সামছুল হুদাকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তিনি ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে জয়লাভ করেন। সেই থেকেই আওয়ামী লীগ এখানে সবসময়ই শক্তিশালী। এরপর থেকে গজারিয়াবাসীকে উপেক্ষা করে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হলে আওয়ামী লীগ থেকে জয়লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এবার গজারিয়া থেকে শিল্পপতি হাফিজুর রহমান খান মনোনয়ন পেলে গজারিয়াবাসী আঞ্চলিকতার টানে তাকে ভোট দেবে এবং তিনি বিপুল ভোটে তিনি জয়লাভ করবেন এমন মìব্য করেছেন অনেকেই।
তার বাবা সালাহউদ্দিন খান বকুল গজারিয়া থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সóাদক ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। হাফিজুর রহমান খান একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি এলাকার অনেক তরুণ শিক্ষিত যুবককে ঔক্যবদ্ধ করে আওয়ামী লীগকে তৃণমল পর্যায়ে সুসংগঠিত করেছেন।
শোনা যাচ্ছে, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনটি এবার জাতীয় পার্টি চাইছে। সে লক্ষ্যে পৌর চেয়ারমান এডভোকেট মজিবুর রহমান বিএনপি থেকে জাতীয় পাটির্তে যোগদান করেছেন। ১৯৭৯ সালে ইউপিপিপি দিয়ে শুরু করে ১৯৮৩ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৯১ সালে বিএনপি এবং সর্বশেষ ফের জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেছেন।
এ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচন করবেন সাবেক তথ্যমìী এম শামসুল ইসলাম। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আ. হাইয়ের নামও শোনা যাচ্ছে। তিনি অবশ্য ১/১১ এর পরে সংস্কারবাদী নেতা আ. মান্নান ভঁইয়ার সমর্থক ছিলেন। পরে পিডিপিতে যোগ দেন।