পদ্মা রিসোর্টে একদিন

বদরউদ্দিন আহমদ
প্রতিদিন কর্মব্যস্ততার পর একটু অবসর প্রয়োজন হয় প্রতিটি মানুষের, যে অবসরকে আমরা ধরে নিতে পারি জীবনের চলার পথকে গতিময় করতে শক্তি বা ফুয়েল হিসেবে। উন্নত বিশ্বের বাসিন্দারা বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়কে বেছে নেন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে, যাতে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাজে উৎসাহ পান, নতুন উদ্যমে বেশি বেশি কাজ এবং সুষ্ঠু ও সুন্দর কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। আমরা বাঙালিরা যে পরিমাণে শ্রম দিয়ে থাকি তা উন্নত দেশের তুলনায় নিঃসন্দেহে কম নয়।

তবে আমরা অনেকে মনে করি বেড়ানো মানে অহেতুক অর্থ খরচ করা এবং ঝামেলা। এ মনোভাব কখনো ঠিক হতে পারে না।

আমি মনে করি আমাদের ব্যস্ত জীবনে একটু সময় বের করে নিজেদের সাধ্যানুযায়ী বছরের যে কোনো একটি নির্দিষ্ট সময় নিজে কিংবা পরিবার-পরিজনদের নিয়ে কোনো মনোরম স্থানে ঘুরে আসা যেতে পারে। তাতে করে নিশ্চিত ভাবে আগের তুলনায় কাজের গতি অনেকটাই বেড়ে যাবে।

যাই হোক, আমি ব্যবসা ও চাকরির সুবাদে নিজ জেলা মুন্সীগঞ্জ থেকে অনেক দূরে দেশের পূর্ব-উত্তর সীমান্তôবর্তী আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে সপরিবারে বসবাস করছি।

গত ঈদের পর (৩ অক্টোবর) সিলেট থেকে নিজেদের গ্রামের (শ্রীনগর) বাড়িতে যাই। সেদিনই দৈনিক ডেসটিনির শ্রীনগর প্রতিনিধি অধীর রাজবংশীর সঙ্গে মোবাইলে আলাপ হয়। এক পর্যায়ে আমরা ২ জন পরদিন সকালে লৌহজং এলাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কথামতো সেদিন সকালে আমরা প্রথমে মাওয়া এবং সেখান থেকে লৌহজংয়ের পিকনিক স্পট ‘পদ্মা রিসোর্ট’-এ গেলাম। তবে মাওয়া থেকে লৌহজং গিয়ে পদ্মা রিসোর্টের জন্য নির্ধারিত স্পিড বোটে উঠতেই আমরা হোঁচট খেলাম। ২ জনের মধ্যে কেউই জানতাম না রিসোর্টে যেতে হলে যে আগে আগেই বুকিং দিতে হয়। আমরা তাতে ভুল করায় স্পিড বোটে ওঠার সময়ই গার্ড এগিয়ে এসে বুকিংয়ের বিষয়টি আমাদের কাছে জানতে চায়। কিন্তু আমরা না সূচক জবাব দিলে গার্ড বলে তা হলে আপনারা সেখানে যেতে পারবেন না। কারণ ‘রিসোর্টে’ যেতে হলে সবাইকেই আগে বুকিং দিতে হয়। ফলে আমরা পদ্মা রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মোহম্মদ আলীর মোবাইলে ফোন করে নিজেদের পরিচয় দিয়ে সেখানে যাওয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করি। তখন তিনি আমাদের বললেন, বোটযোগেই আপনারা রিসোর্টে যান আমি আসছি।

কথামতো ভদ্রলোক সেখানে চলে এলেন। মিষ্টভাষী মোহম্মদ আলীর অমায়িক ব্যবহার আমাদের মুগ্ধ করে। কথা বলার এক পর্যায়ে জানা হলো ভদ্রলোক এ ব্যয়বহুল এবং সৌখিন পর্যটন ব্যবসায় কিভাবে এলেন, তার এই পর্যটন শিল্পে আরো যে ২ জন ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন তাদের কথাও জানালেন। পরে শওকত হোসেন (প্রাক্তন সড়ক ও জনপথ কর্মকর্তা) ও মো· আব্দুস সোবহানের (প্রকৌশলী) সঙ্গেও আমাদের দেখা হয়। তাদের সঙ্গে ছিলেন মিসেস সোবহান। চমৎকার কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়েছে, যাদের কখনো ভোলার মতো নয়।

এরপর আমরা পদ্মা রিসোর্টের মনোরম দৃশ্য এবং সেখানে গড়ে তোলা ডুপেস্নক্স ঘরগুলো ঘুরে দেখলাম। পদ্মার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় গড়ে তোলা এসব ঘর দর্শনমাত্র যে কারোই মন কেড়ে নেয়। আমাদেরও তার ব্যতিক্রম হলো না। ডুপেস্নক্স ঘরে একাধিক বেডরম্নম, ডাইনিংসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিন কিংবা রাত যাপনের আনুষঙ্গিক সব সুবিধাই রয়েছে। রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি রেস্টুরেন্টও, যার খাবার মেন্যুতে প্রতিদিনই থাকছে পদ্মার টাটকা ইলিশ, বড় চিংড়ি, দেশি মোরগের মাংস, তাজা রম্নই মাছ, সবজি ও ডালসহ লোভনীয় খাদ্যসামগ্রী।

রেস্টুরেন্টের বিরাট ডাইনিং হলে এক সঙ্গে শতাধিক লোকের খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া পদ্মার তীরঘেঁষা সারি সারি কাশফুল দেখলে মনে হয় যেন কোনো শিল্পীর নিপুণ তুলির ছোঁয়ায় নয়ন জুড়ানো রূপে সাজানো হয়েছে। আর যখন বাতাস এসে সারি সারি কাশবনকে দোলা দেয় তখন মনে হয় যেন সেখানে সাগরের ঢেউ খেলছে।

রিসোর্টের এ চমৎকার দৃশ্য অবলোকন করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন সেখানে ছুটে আসছেন। সেদিন ঢাকার মালিবাগ থেকে সেখানে আসা টুম্পা, তন্বী, মিতুদের সঙ্গে দেখা হয়। কথার ফাঁকে তারা বললো, জনাকীর্ণ শহর ছেড়ে কোলাহলমুক্ত পদ্মা রিসোর্টের নির্মল পরিবেশে এসে তাদেরও খুব ভালো লাগছে। শুধু টুম্পা, তন্বী নয়- যারাই পদ্মার এ বালুচরে একবার যাবেন, তাদের মন কম হলেও আরো একবার সেখানে যাওয়ার আবেদন জানাবে, যা আমি অনুভব করেছি।

হয়তো আরো অনেকেই আমার মতো শুধু একবার নয় বারবার সেখানে যাচ্ছেন- পদ্মার সে রূপ মনে গেঁথে নিচ্ছেন কবিতা কিংবা সাহিত্যের অন্য কোনো অন্তর দৃষ্টি দিয়ে। আর তা হয়তো প্রকাশও পাবে সে রকম কোনো সাহিত্যের ভাষায়। পদ্মা রিসোর্টে একদিন বদরউদ্দিন আহমদ প্রতিদিন কর্মব্যস্ততার পর একটু অবসর প্রয়োজন হয় প্রতিটি মানুষের, যে অবসরকে আমরা ধরে নিতে পারি জীবনের চলার পথকে গতিময় করতে শক্তি বা ফুয়েল হিসেবে। উন্নত বিশ্বের বাসিন্দারা বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়কে বেছে নেন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে, যাতে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাজে উৎসাহ পান, নতুন উদ্যমে বেশি বেশি কাজ এবং সুষ্ঠু ও সুন্দর কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। আমরা বাঙালিরা যে পরিমাণে শ্রম দিয়ে থাকি তা উন্নত দেশের তুলনায় নিঃসন্দেহে কম নয়।

তবে আমরা অনেকে মনে করি বেড়ানো মানে অহেতুক অর্থ খরচ করা এবং ঝামেলা। এ মনোভাব কখনো ঠিক হতে পারে না। আমি মনে করি আমাদের ব্যস্ত জীবনে একটু সময় বের করে নিজেদের সাধ্যানুযায়ী বছরের যে কোনো একটি নির্দিষ্ট সময় নিজে কিংবা পরিবার-পরিজনদের নিয়ে কোনো মনোরম স্থানে ঘুরে আসা যেতে পারে। তাতে করে নিশ্চিত ভাবে আগের তুলনায় কাজের গতি অনেকটাই বেড়ে যাবে।

যাই হোক, আমি ব্যবসা ও চাকরির সুবাদে নিজ জেলা মুন্সীগঞ্জ থেকে অনেক দূরে দেশের পূর্ব-উত্তর সীমান্তôবর্তী আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে সপরিবারে বসবাস করছি।

গত ঈদের পর (৩ অক্টোবর) সিলেট থেকে নিজেদের গ্রামের (শ্রীনগর) বাড়িতে যাই। সেদিনই দৈনিক ডেসটিনির শ্রীনগর প্রতিনিধি অধীর রাজবংশীর সঙ্গে মোবাইলে আলাপ হয়। এক পর্যায়ে আমরা ২ জন পরদিন সকালে লৌহজং এলাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কথামতো সেদিন সকালে আমরা প্রথমে মাওয়া এবং সেখান থেকে লৌহজংয়ের পিকনিক স্পট ‘পদ্মা রিসোর্ট’-এ গেলাম। তবে মাওয়া থেকে লৌহজং গিয়ে পদ্মা রিসোর্টের জন্য নির্ধারিত স্পিড বোটে উঠতেই আমরা হোঁচট খেলাম। ২ জনের মধ্যে কেউই জানতাম না রিসোর্টে যেতে হলে যে আগে আগেই বুকিং দিতে হয়। আমরা তাতে ভুল করায় স্পিড বোটে ওঠার সময়ই গার্ড এগিয়ে এসে বুকিংয়ের বিষয়টি আমাদের কাছে জানতে চায়। কিন্তু আমরা না সূচক জবাব দিলে গার্ড বলে তা হলে আপনারা সেখানে যেতে পারবেন না। কারণ ‘রিসোর্টে’ যেতে হলে সবাইকেই আগে বুকিং দিতে হয়। ফলে আমরা পদ্মা রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মোহম্মদ আলীর মোবাইলে ফোন করে নিজেদের পরিচয় দিয়ে সেখানে যাওয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করি। তখন তিনি আমাদের বললেন, বোটযোগেই আপনারা রিসোর্টে যান আমি আসছি।

কথামতো ভদ্রলোক সেখানে চলে এলেন। মিষ্টভাষী মোহম্মদ আলীর অমায়িক ব্যবহার আমাদের মুগ্ধ করে। কথা বলার এক পর্যায়ে জানা হলো ভদ্রলোক এ ব্যয়বহুল এবং সৌখিন পর্যটন ব্যবসায় কিভাবে এলেন, তার এই পর্যটন শিল্পে আরো যে ২ জন ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন তাদের কথাও জানালেন। পরে শওকত হোসেন (প্রাক্তন সড়ক ও জনপথ কর্মকর্তা) ও মো· আব্দুস সোবহানের (প্রকৌশলী) সঙ্গেও আমাদের দেখা হয়। তাদের সঙ্গে ছিলেন মিসেস সোবহান। চমৎকার কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়েছে, যাদের কখনো ভোলার মতো নয়।

এরপর আমরা পদ্মা রিসোর্টের মনোরম দৃশ্য এবং সেখানে গড়ে তোলা ডুপেস্নক্স ঘরগুলো ঘুরে দেখলাম। পদ্মার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় গড়ে তোলা এসব ঘর দর্শনমাত্র যে কারোই মন কেড়ে নেয়। আমাদেরও তার ব্যতিক্রম হলো না। ডুপেস্নক্স ঘরে একাধিক বেডরম্নম, ডাইনিংসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিন কিংবা রাত যাপনের আনুষঙ্গিক সব সুবিধাই রয়েছে। রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি রেস্টুরেন্টও, যার খাবার মেন্যুতে প্রতিদিনই থাকছে পদ্মার টাটকা ইলিশ, বড় চিংড়ি, দেশি মোরগের মাংস, তাজা রম্নই মাছ, সবজি ও ডালসহ লোভনীয় খাদ্যসামগ্রী।

রেস্টুরেন্টের বিরাট ডাইনিং হলে এক সঙ্গে শতাধিক লোকের খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া পদ্মার তীরঘেঁষা সারি সারি কাশফুল দেখলে মনে হয় যেন কোনো শিল্পীর নিপুণ তুলির ছোঁয়ায় নয়ন জুড়ানো রূপে সাজানো হয়েছে। আর যখন বাতাস এসে সারি সারি কাশবনকে দোলা দেয় তখন মনে হয় যেন সেখানে সাগরের ঢেউ খেলছে।

রিসোর্টের এ চমৎকার দৃশ্য অবলোকন করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন সেখানে ছুটে আসছেন। সেদিন ঢাকার মালিবাগ থেকে সেখানে আসা টুম্পা, তন্বী, মিতুদের সঙ্গে দেখা হয়। কথার ফাঁকে তারা বললো, জনাকীর্ণ শহর ছেড়ে কোলাহলমুক্ত পদ্মা রিসোর্টের নির্মল পরিবেশে এসে তাদেরও খুব ভালো লাগছে। শুধু টুম্পা, তন্বী নয়- যারাই পদ্মার এ বালুচরে একবার যাবেন, তাদের মন কম হলেও আরো একবার সেখানে যাওয়ার আবেদন জানাবে, যা আমি অনুভব করেছি।

হয়তো আরো অনেকেই আমার মতো শুধু একবার নয় বারবার সেখানে যাচ্ছেন- পদ্মার সে রূপ মনে গেঁথে নিচ্ছেন কবিতা কিংবা সাহিত্যের অন্য কোনো অন্তর দৃষ্টি দিয়ে। আর তা হয়তো প্রকাশও পাবে সে রকম কোনো সাহিত্যের ভাষায়।

One Response

Write a Comment»
  1. Dekhi er por bangladeshe gele.. dekhe ashobo.. podma resort abong kheya ashbo.. lovonio sob khabarr.. wonderful idea.. proud about bikrumpur and peoples