বড় দুই দল মার্কার আড়ালে ভ্রষ্ট রাজনীতি করছে

bc1শেখ মামুনূর রশীদঃ

সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্প ধারার সভাপতি অধ্যাপক ডা· একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, বড় দুই দল ও জোট তাদের মার্কার আড়ালে ভ্রষ্ট রাজনীতিকে আবার পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের মনে রাখতে হবে, অসৎ, দুর্নীতিবাজ ও ভ্রষ্ট রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদরা দেশকে কখনোই এগিয়ে নেবে না। বরং দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। এ অবস্থায় বিকল্প ধারা, গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, কল্যাণ পার্টিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে তারা পৃথক একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই ফ্রন্ট দেশ বাঁচাতে পুরনো ধাঁচের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি উদার গণতন্ত্রের বাংলাদেশ বিনির্মাণে লড়াই করবে। রোববার যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি একথা বলেন। বি· চৌধুরী এ সময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যোগ দেয়া, আবার সেই জোটের সঙ্গে সম্পর্কোচ্ছেদ করে পৃথক ফ্রন্ট গঠনের উদ্যোগসহ বিভিন্ন প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, মহাজোটে তারা নেই। এর অর্থ এই নয় যে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এ দলটির সঙ্গে আগের মতোই সুসম্পর্ক থাকবে। আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতার কারণেই কি মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসা? এমন প্রশ্নের জবাবে বিকল্প ধারার সভাপতি বলেন, এখন পর্যন্ত মহাজোটে থাকা না থাকা নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কোন আলোচনাই হয়নি। তাই আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতার প্রশ্নই ওঠে না।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচন হলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো। এ গৃহযুদ্ধ ঠেকাতে এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতির প্রতিবাদ জানাতে তারা মহাজোটে শরিক হন। তখনকার প্রেক্ষাপটে সেটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। ১১ জানুয়ারির পর দৃশ্যপট বদলে গেছে। এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। দীর্ঘ প্রায় ২২ মাস পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন দোড়গোড়ায় তখন কেন মহাজোটে না থাকার ঘোষণা দিলেন? এর জবাবে তিনি বলেন, ১১ জানুয়ারির পর বিকল্প ধারা কখনোই বলেনি যে, তারা মহাজোটে আছে। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। ইতিবাচক রাজনীতি দেখতে চায়। বড় দুই দল ও জোট দীর্ঘ ২২ মাসেও ইতিবাচক রাজনীতি উপহার দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই বিকল্প ধারা সমমনাদের নিয়ে পৃথক ফ্রন্ট গঠনে উদ্যোগী হয়েছে।

অধ্যাপক ডা· একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের সেই পুরনো মুখ আর মানুষ দেখতে চান না। বড় দুই দল ও জোট মানুষের এই চাওয়াকে প্রাধান্য না দিয়ে এখনো পুরনো ধাঁচের রাজনীতি করতে চায়। আমেরিকার নির্বাচনসহ দেশে দেশে পরিবর্তনের যে হাওয়া বইছে তা থেকে এই দুই দল ও জোটের অনেক কিছু শেখার আছে। তাদের পুরনো ধাঁচের রাজনীতি দেশকে পিছিয়ে দেয়ার, সন্ত্রাসী, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ কোন মহলের আশীর্বাদ নিয়ে এই ফ্রন্টের জন্ম হচ্ছে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে বি· চৌধুরী বলেন, তারা বিশেষ মহল নয় জনগণের মন পাওয়ার রাজনীতি করেন।

বিকল্প ধারার সভাপতি বলেন, দেশের মানুষ মনে করেছিল ১১ জানুয়ারির পর যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তারা সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন থাকবে। সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে সরকার যে আচরণ করছে তাতে তাদের আপসকামিতার পরিষ্কার চিত্র ফুটে উঠেছে। মনে হচ্ছে, সেই পুরনো মুখের যে কারও কাছে ক্ষমতা দিয়ে তারা এখন কোনমতে পালানোর পথ খুঁজছেন। দেশের জনগণ সরকারের এ আচরণে পুরোপুরি হতাশ হয়েছে। এতগুলো শিক্ষত ও ডিগ্রিধারী মানুষ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে না, সাধারণ মানুষ ভাবতেই পারেনি। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে তারা নতুন ফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিগত সংসদের অর্ধেকের বেশি সদস্য দুর্নীতির অভিযোগে হয় শাস্তিপ্রাপ্ত, অভিযুক্ত না হয় পলাতক। যে সংসদে শতকরা ২০ ভাগ সদস্যের অভাবে প্রায়ই কোরাম হয়নি, যে সরকারের মন্ত্রিসভার বিশাল অংশ দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত অথবা শাস্তিপ্রাপ্ত হয়, যে সরকারের কারণে দেশ দুর্নীতিতে বারবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্কের বোঝা বহন করে- সেই সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা পার পেয়ে যাবে মানুষ তা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তারা মনে করে, দেশকে বাঁচাতে সৎ, মেধাবী, দেশপ্রেমিক ও জনগণের কাছের মানুষকে সংসদে আনতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তাদের মাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। তবেই দেশ অনিবার্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।