মুন্সীগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর সম্ভাবনা কাজে লাগছে না

muktarpurআবু সাঈদ সোহান মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জঃ বিসিক শিল্পনগরীর একটি অসম্পূর্ণ ইউনিটঃ নয়া দিগন্ত
সম্ভাবনা থাকলেও অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তাহীনতা ও ঋণসহযোগিতা না পাওয়ায় মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরের বিসিক শিল্পনগরী ক্ষুদ্র শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এ ছাড়া ১১ মাস ধরে বিসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা বন্ধ থাকায় তাদের কর্মকাণ্ডে শিথিলতা এসেছে। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটাও অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭-৮৮ সালে মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে মুক্তারপুরে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে ১২.৬৮ একর জমি অধিগ্রহণ করে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। একই সালে প্লট বিভাজন করা হয়। তিন শ্রেণীর প্লট তৈরি করা হয়। এ-৪ হাজার ৫০০ বর্গফুট, বি-৩ হাজার বর্গফুট এবং সি- বিভিন্ন মাপের প্লট। জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানের একটি নির্দিষ্ট কমিটির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ হয়। প্লট মালিকদের এককালীন ও কিস্তির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এককালীন পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬৫ টাকা ৫০ পয়সা এবং কিস্তির ক্ষেত্রে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা। বর্তমানে তা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে সূত্রে জানানো হয়।
সূত্রে আরো জানানো হয়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) মুন্সীগঞ্জে মোট ৬৫টি ইউনিট ও ৮২টি প্লটের পরিকল্পনা করে। তার মধ্যে ৪৭টি উৎপাদিত, সাতটি উৎপাদন যোগ্য, ছয়টি নির্মাণাধীন ও পাঁচটি নির্মাণের অপেক্ষায় আছে। শিল্প-কলকারখানাগুলোর মধ্যে ফিলামেন্ট, মাল্টি ফিলামেন্ট, ফিশিং নেট, সুতা, ইয়ান, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, টিভি-ফ্রিজ-অ্যাসেম্বলি, রাবার তৈরির কারখানা, প্যাকেজিং, ব্রেড-বিস্কুট, সেমাই, চানাচুর, মিনারেল ওয়াটার ও পিভিসি পাইপ প্রভৃতি।
সরেজমিন বিসিক নগরী ঘুরে দেখা গেছে, বিসিকের কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। যত্রতত্র বস্তি গড়ে উঠেছে। গড়ে উঠেছে মাদকদ্রব্যের জমজমাট আড্ডা। পড়ে থাকতে দেখা গেছে বিভিন্ন বিষাক্ত বর্জø­ যা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। ড্রেনগুলো ময়লাভর্তি। এ ছাড়া বিসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১১ মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে। ২০০৭ সালে প্লট প্রজেক্টের মেয়াদ শেষ হয়। প্রজেক্ট রেভিনিউতে গেলে তাদের বেতনের বিষয়টি সুরাহা হবে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ফলে সার্বিকভাবে বিসিকের প্রশাসনিক কাজেও দেখা গেছে স্থবিরতা।
এ ব্যাপারে রূপসা ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আল মুজাহিদ জানান, বিসিকের সরবরাহকারী বেশ ক’টি ইন্ডাস্ট্রিজ একই সাথে গড়ে ওঠায় পাইকাররা বেশি ভিড় করেন। ফলে মালামাল ক্রয়-বিক্রয় সুবিধা হয়। এ ছাড়া মুক্তারপুর ব্রিজ হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা এখন সহজতর। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা সমাধানে পাওয়ার স্টেশন জরুরি।
বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি নাহার পিভিসি পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মোহাম্মদ আলী মিঝি জানান, নিরাপত্তাহীনতা, ব্যাংকঋণ সুবিধা না থাকায় অনেক ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ রয়েছে। বিসিকে প্রায়ই চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এসব সমস্যা সমাধানে বিসিক কর্মকর্তাদের আরো নজরদারি বাড়ানো এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা উচিত।
বিষয়গুলোর কিছুটা সত্যতা স্বীকার করে লোকবল সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা বলেন বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বশিরুল হক সরকার। তিনি ‘নয়া দিগন্ত’কে জানান, বছরে চার-পাঁচ বার ড্রেন পরিষ্কার করা হয়। নিরাপত্তা বেষ্টনী ও পাওয়ার স্টেশন করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বস্তি উচ্ছেদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দফতরে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা নেয়া আমাদের দায়িত্ব নয়। আমরা শুধু তথ্য দিয়ে সহযোগিতা ও সুপারিশ করি।