গজারিয়ার দুই গডফাদার

মোস্তফা সারোয়ার বিপ্লব
মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার রায়পাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ সরকারের ছেলে আব্দুল মান্নান এলাকায় পরিচিত স্ট্যান্ডার্ড মান্নান নামে৷ ২০০২ সালের শেষের দিকে বা ২০০৩ সালের শুরুতে স্ট্যান্ডার্ড নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টাইপিস্ট পদে চাকরিতে যোগ দেন৷ বেতন ছিল সর্বসাকুল্যে সাড়ে চার হাজার টাকা৷ অর্ধযুগ পরে মান্নান আজ নিজেও ঠিকমতো বলতে পারবেন না তিনি কত টাকার মালিক৷ গাড়ি, বাড়ি, সিএনজি পাম্প, ড্রেজার, বালি সরবরাহের বোট, ডকইয়ার্ডসহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মান্নানের রয়েছে ২০০টির বেশি মিশুক গাড়ি৷ নিজ গ্রামে গঠন করেছেন মিশুক সমাজকল্যাণ সংস্থা, যার সভাপতিও তিনি৷ রায়পুরা কিন্ডারগার্টেন-এর প্রধান উপদেষ্টা, মেঘনা বহুমুখী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গোয়ালা এনজিওর ভাইস চেয়ারম্যান, দি ইউনিভার্সেল আর্টস (সাংস্কৃতিক সংগঠন)- ও জার্নালিজম ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক তিনি৷ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য নিজের নামে ক্রয় করেছেন অন্তত ৫০০ বিঘা জমি৷ নিজের, স্ত্রীর এবং আত্মীয়স্বজনের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব আছে৷ নিজের নিরাপত্তার জন্য সর্বক্ষণিক দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন চার শীর্ষ ক্যাডারকে৷ এলাকায় আসা-যাওয়া গাড়ির বহর নিয়ে৷ সফরসঙ্গী হিসেবে থাকে স্থানীয় ৪০-৫০ ক্যাডার৷ পুলিশ প্রশাসনও তাকে সম্বোধন করে বড় ভাই নামে৷ ১/১১-এর পর মাসখানেক আত্মগোপনে থাকলেও বীরদর্পে জনসম্মুখে ফিরে এসেছে ক্যাডার বাহিনীসহ৷ এলাকার অনেকের অভিযোগ, ১/১১-এর পর আব্দুল মান্নান আগের চেয়েও বেশি ক্ষমতাধর৷

অথচ ক্ষমতাধর এই কোটিপতির বিরুদ্ধে স্থানীয় বালিয়াকান্দি, ভাটেরচর তেতৈতলা, ভবানীপুর ও টেঙ্গার গ্রামের শত শত নিরীহ কৃষক দোফসলী জমি দখল নেয়ার অভিযোগ এনেছেন৷ ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দকৃত ও সরকারি খাল দখল করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে৷ স্থানীয়রা জানান, নিরীহ কৃষক থেকে সরকারি খাস _কোনোটাই মান্নানের দখল থেকে বাদ পড়েনি৷ ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ বিঘা জমি দখলে নিয়েছে তার বাহিনী৷ এমনকি বালিও ভরাট করেছে৷ স্ট্যান্ডার্ড গ্রম্নপের নামে এ দখল বাণিজ্য হয়েছে৷

জানা গেছে, স্থানীয় কলা মনির ও মুক্তারের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বালিয়াকান্দিতে স্ট্যান্ডার্ড নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি জমি কেনা শুরু করে ২০০৩ সালের শেষের দিকে৷ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জমি ক্রয় বিষয়ে মনির ও মুক্তারের সঙ্গে কাজের দায়িত্ব দেয়া হয় মান্নানকে৷ ২০-২৫ বিঘা জমি ক্রয়ের পর মনির ও মুক্তারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হলে মান্নান পক্ষ নেয় মনিরের৷ এবার মান্নান, কলা মনির ও জনৈক শামসু মিলে সিন্ডিকেট করে স্ট্যান্ডার্ডের পক্ষে জমি কেনা শুরু করে৷ কোম্পানি থেকে বিঘাপ্রতি ১৫-২০ লাখ টাকা দাম নির্ধারণ করা হলেও জমির মালিকদের দেয়া হয়েছে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে৷ বাড়তি টাকার সমান ভাগ পেত কলা মনির, শামসু ও মান্নান৷ বছরখানেকের মধ্যে মান্নান একাই জমি কেনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন৷ এজন্য এলাকার ৩০-৪০ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী দলে টেনে মান্নান গঠন করেন একটি সন্ত্রাসী বাহিনী৷ জমি কেনার সঙ্গে এবার শুরু হয় দখল বাণিজ্য৷ ২০০৫ সালের শেষের দিকে এই কোম্পানির জমি কেনার কাজ শেষ হয়৷ সর্বমোট ২৮০ বিঘা জমি ক্রয় হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানির নামে৷ বালি ভরাটের কার্যাদেশও দেয়া হয় মান্নানকে৷ স্থানীয় মান্নানবিরোধী আলম গ্রুপের সঙ্গে বালি ভরাটের কার্যাদেশকে কেন্দ্র করে চারবার সংঘর্ষ হয়েছে৷ শেষ পর্যন্ত আবার সমঝোতা হয় এবং এক পর্যায়ে দু্ই গ্রুপ একত্রিত হয়৷ দুই বাহিনীর শতাধিক ক্যাডারের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে৷

২৮০ বিঘা সম্পত্তি স্ট্যান্ডার্ড গ্রম্নপ ক্রয় করলেও মান্নান সিন্ডিকেট দখল করে নেয় ৪০০ বিঘার ওপরে৷ আবার পুরো জমিতে বালি ভরাট করেছেন মান্নান৷ বালি ভরাটের সময় জমির প্রকৃত মালিকরা বাধা দিলেও কোনো ফল হয়নি, বরং তারা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন৷ তত্‍কালীন এমপি আবদুল হাইয়ের বিশ্বস্ত সহচর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইমামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ছিলের মান্নান সিন্ডিকেটের নীতিনির্ধারক৷ এর ফলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ক্ষমতাধীন স্থানীয় দলীয় ক্যাডার বাহিনী সরাসরি মান্নানের পক্ষে থাকায় সহজেই দখলে নিয়েছে ১২০ থেকে ১৫০ বিঘা জমি৷ এভাবেই ভূমিদসু্য হয়ে ওঠেন মান্নান৷ জানা গেছে, অবৈধ দখলকৃত বিঘাপ্রতি জমির দাম প্রতিষ্ঠানের পৰ থেকে মান্নানকে দেয়া হয়েছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা করে৷ এ হারে ১২০ বিঘা সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা সিন্ডিকেট পেয়েছে স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানি থেকে৷ আর বালি ভরাটের অর্থ তো আছেই৷

বালিয়াকান্দি, তেতৈতলা, ভাটেরচর, টেঙ্গার চর ও ভবানীপুর এলাকার অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভূমিদসু্য মান্নান বাহিনীর জুলুম ও নির্যাতনের অনেক চিত্র৷ নিরীহদের জমি দখল করলেও মান্নান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস কেউ পায়নি৷ বালিয়াকান্দি গ্রামের আজগর আলী প্রধানের ১০ বিঘা সম্পত্তি মান্নানের দখলে৷ তিনি জানান, আমার ১০ বিঘা সম্পত্তি ভূমিদসু্য মান্নান দখলে নিয়ে কোম্পানিকে দিয়েছে৷ বালিয়াকান্দি মৌজার ৮০৭, ৮০৮, ৮০৯, ৮১৮, ৮২৪, ৮২৫, ৮৩৭, ৮৩৮ ও ৮১০ দাগের সম্পত্তিগুলোর মালিক তিনি ও তার অংশীদাররা৷ তারা কেউ জমি বিক্রি করেননি৷ এই মৌজায় বর্তমানে প্রতিবিঘা জমির দাম ২০ লাখ টাকার ওপরে৷ জমি বিক্রির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দখল করেই জমিতে বালি ভরাট করে ভূমিদসু্য আব্দুল মান্নান৷ স্থানীয় হাফিজ উদ্দিন জানান, বালিয়াকান্দি মৌজায় উত্তরাধিকার সূত্রে তিন বিঘা জমির মালিক তিনি৷ কিন্তু মান্নান স্ট্যাডার্ডের কেনা জমির সঙ্গে তার জমিতেও বালি ভরাট করেছে৷ একই এলাকার জয়নালদের ৫ বিঘা, আল আমিনের ২ বিঘা, বালিয়াকান্দি দক্ষিণপাড়ার হারিজউদ্দিন মিঞার প্রায় আড়াই বিঘা, তফাজ্জলের সাড়ে তিন বিঘা ও মিলনের সাড়ে তিন বিঘা জমি গেছে মান্নানের দখলে৷

শুধু নিরীহ কৃষকদের নয়, অনেক প্রভাবশালীর সম্পত্তিও দখল করেছে মান্নান বাহিনী৷ রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার শামীম পারভেজ ও তাদের আত্মীয়স্বজন ৮ বিঘা সম্পত্তির মালিকানা বালিয়াকান্দি মৌজায়৷ পরিবারের সবাই ঢাকায় স্থায়ীভাবে বাস করেন৷ মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও বর্তমান ওয়ার্ড কমিশনার শামীম পারভেজের নিয়ন্ত্রণে আছে ঢাকার অনেক ক্যাডার৷ দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকায় জোট আমলে কমিশনার শামীম পারভেজ নিজেই ক্ষমতাধর হয়েও দখলকৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করতে পারেননি৷ একই এলাকার খোকন তাদের পরিবারের জমি উদ্ধার করতে গেলে মান্নান বাহিনী তার পা ভেঙে দেয়৷

ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দ এবং সরকারি খালও দখল করে স্ট্যান্ডার্ডের কাছে দখল বুঝিয়ে দিয়েছে আব্দুল মান্নান৷ জানা গেছে, পুরনো হুলদী নদী সংলগ্ন বোয়ালখালী চর ও রামচরী চরের মাঝখানে একটি খাল আছে৷ স্থানীয়দের কাছে তা বোয়ালখালী চর নামে পরিচিত৷ প্রতি বছর এ খালে মাছের ঝোপের জন্য টেন্ডার হয়৷ স্থানীয় বালিয়াকান্দির করবস্থান ও ঈদগাহের উন্নয়ন বাবদ খরচ হয় এই অর্থ৷ কবরস্থান ও ঈদগাহ কমিটির সদস্যরা পরিচালনা করেছেন এই টেন্ডার প্রক্রিয়া৷ প্রতি বছর ৩/৪ লাখ টাকা ডাক উঠেছে ঝোপ ফালানোর জন্য৷ স্থানীয় প্রবীণরা জানান, ৫০/৬০ বছর ধরে একই নিয়মে চললেও ২০০৬ ও ২০০৭ সালে পুরো খাল ভরাট করে দখলে নিয়েছে মান্নান বাহিনী৷ খালে এখন শোভা পাচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানির সাইনবোর্ড৷ খালের পাশেই থাকা ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দ ১০/১২ বিঘা জমিও ভরাট করে ফেলেছে মান্নান বাহিনী৷

মোট ৪০০ বিঘা সম্পত্তিতে বালি ভরাট করা হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানির নামে৷ ভূমিদসু্য মান্নানের সহায়তায় ক্রয়ের চেয়ে ১২০ বিঘারও বেশি পরিমাণ জমির মালিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি৷ ২০০৬ ও ২০০৭ সালে বালি ভরাট করে ৪০০ বিঘা জমির সীমা নির্ধারণ করেছে স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানি৷ জানা গেছে, বিশাল এই জায়গাজুড়ে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগে আরও কমপক্ষে ২ কোটি ঘনফুট বালি ভরাটের প্রয়োজন৷ মাসখানেক আগে বালি ভরাটের জন্য মান্নান ড্রেজার লাগালে জমির মালিকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়৷ ফলে সাময়িকভাবে পিছুটান দেয় মান্নান৷

নিঃস্ব থেকে কোটিপতি

১৯৯৪-৯৫ শিৰাবর্ষে মান্নান সোহরাওয়ার্দী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে অধ্যয়নরত৷ ২০০ টাকার সিট ভাড়ায় থাকতেন যাত্রাবাড়ী এলাকার কুতুবখালীর একটি মেসে৷ একই মেসে থেকে পড়ালেখা করেছেন আওলাদ নামে জনৈক৷ দু’জনের বাড়ি একই উপজেলায়৷ সম্পর্কে তারা বন্ধু৷ আওলাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাস মান্নান সিট ভাড়া দিতে না পাড়ায় বাড়িওয়ালা তার কাপড়-চোপড়সহ যাবতীয় সরঞ্জাম রেখে মেস থেকে বের করে দেয়৷ পরবর্তীতে মান্নান পাড়ি জমান চট্টগ্রামে৷ বর্তমানে সেই মান্নান শত কোটির মালিক, চড়ে বেড়ায় দামী গাড়িতে৷ জীবনের নিরাপত্তার জন্য অবৈধ অস্ত্রের বহর নিয়ে তাকে পাহারা দিচ্ছে একাধিক সন্ত্রাসী৷ জমি দখলের মাধ্যমে তিনি নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছেন স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানির কাছে৷

বছর চারেক আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বালিয়াকান্দি সংলগ্ন ২৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন আব্দুল মান্নান৷ বছর দুয়েক আগে এ জমিতে শের শাহ আলী ফিলিং স্টেশনের সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে৷ গত বছর বালি ভরাট করেছেন এখানে৷ ২৫ শতাংশ জমি ক্রয় করলেও বালি ভরাট করা হয়েছে ৪ বিঘায়৷ এখন দ্রুতগতিতে চলছে সিএনজি পাম্পের নির্মাণ কাজ৷ অথচ বাখরাবাদ গ্যাস লাইনের সংযোগ সিএনজি পাম্পের নিচে হওয়ায় এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকে৷

বালিয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডের চা বিক্রেতা সাত্তারের অভিযোগ, তার ২৮ শতাংশ জমি দখলে নিয়ে সিএনজি পাম্প নির্মাণ করছেন আব্দুল মান্নান৷ সাত্তার সাপ্তাহিককে জানান, গত বছর জোর করে মান্নান তার জমিতে বালি ফেলেছেন৷ এর প্রতিবাদ করায় তার চা বিক্রি বন্ধ করে দেয় মান্নানের ক্যাডার বাহিনী৷ বাড়িতে পুলিশ পাঠায়৷ সাত্তার ছাড়াও সওজের জমি দখল করা হয়েছে৷ জমির পাশে ব্রিজ সংলগ্ন খাস জমিতে মাছের চাষ করছে স্থানীয় একটি যুব সংগঠন৷ মাস দুয়েক আগে এই জমিতেও জোরপূর্বক বালি ভরাট করতে গেলে এবার বাধার মুখে পড়ে মান্নান বাহিনী৷ স্থানীয় যুবক ও গ্রামবাসী মিলে বাধা দেয় মান্নানকে৷ আপাতত তাই বন্ধ আছে বালি ভরাটের কাজ৷

এভাবে দখলবাজ মান্নান শুধু জমি দখল করে বিনা পুঁজিতে মালিক হয়েছেন একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের৷ ব্যবসা পরিচালনার জন্য মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার গেস্ন্নাব চেম্বারের চার তলায় নেয়া হয়েছে অফিস৷ শাহ শের আলী এন্টারপ্রাইজ নামে প্রতিষ্ঠানটির অফিস হিসেবে সাজানো হয়েছে পরিপাটিভাবে৷ নিজ গ্রাম রায়পুরায় ৫ তলার ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি তোলা হয়েছে৷ গ্রামের আশপাশে জমি কিনেছেন ৫০ বিঘা৷ এগ্রো ডেইরি ফার্ম নামে নতুন একটি প্রকল্প করেছেন নিজ গ্রামেই৷ বড় রায়পাড়া ও ছোট রায়পাড়ার মাঝামাঝিতে কনকর্ড প্রকল্পের পাশে ১০০ বিঘারও বেশি জমি কিনেছেন আব্দুল মান্নান৷ নদী থেকে বালি উত্তোলনের যন্ত্র ড্রেজার কিনেছেন তিনটি৷ শের শাহ আলী ১, ২ ও ৩ নামে চলছে ড্রেজার তিনটি৷ একই নামেও বালি সরবরাহের বোটের মালিক দুটি৷ ঢাকার গোলাপবাগ মাঠের সিএনজি পাম্প সংলগ্ন তৃতীয় তলার বাড়িটির মালিক আব্দুল মান্নান৷ এ বাড়ির তৃতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন মান্নান৷ নিজে বাড়িটি ক্রয় করলেও মান্নান বলে থাকেন যে স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানি বাড়িটি তাকে উপহার দিয়েছে৷ সোনারগাঁওয়ের জাদুঘর এলাকায় ৩০০ বিঘা সম্পত্তি ক্রয় করেছে মান্নান সিন্ডিকেট৷

এ ব্যাপারে আঃ মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সাপ্তাহিককে জানান, আমরা এখানে সর্বমোট ৩৩৫ বিঘা জমি ক্রয় করেছি৷ বালি ভরাটও করা হয়েছে আমাদের কেনা নির্দিষ্ট জমিতেই৷ আজগর আলী, হাফিজউদ্দিন, জয়নাল, শামীম পারভেজ ও মিলনসহ অনেকের জমি দখলের ব্যাপারে মান্নান সাপ্তাহিককে জানান, আমাদের বালি ভরাটের জমিতে এদের কোনো জমির মালিকানা নেই৷ তবে স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানির আশপাশে এদের জমি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন আঃ মান্নান৷ কিন্তু সরেজমিনে এদের কোনো জমি দখলে নেই_ এ ব্যাপারে আঃ মান্নান সাপ্তাহিককে জানান, ভাই মোবাইলে নয় সরাসরি আসেন সাৰাতে সব কিছু বলব৷ বোয়ালখালী চরে বালি ভরাট প্রসঙ্গে মান্নান সাপ্তাহিককে বলেন, আমরা লিজের জন্য আবেদন করছি৷ বর্তমানে তা প্রক্রিয়াধীন৷ মান্নান দাবি করেন লিজ প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় বালি ভরাট করতে আইনগত কোনো বাধা নেই৷

স্থানীয় সাত্তার ও সওজের জমি দখল করে সিএনজি পাম্প নির্মিত হচ্ছে_ এ ব্যাপারে আঃ মান্নান সাপ্তাহিককে জানান, আমার পাম্পের ডান পাশের জমির মালিক সাত্তার৷ এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, পাম্প সংলগ্ন ডান পাশে হাইকোর্টের জনৈক বিচারপতির মালিকাধীন মেঘনা হাইওয়ে ক্যাফে রেস্টুরেন্ট৷ তার বিরম্নদ্ধে মাসিক বেতনভুক্ত ক্যাডার পালন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সাপ্তাহিক-এর কাছে অস্বীকার করেন৷

মজিবুরের দৌরাত্ম্য

জোট সরকারের সময় অপারেশন ক্লিনহার্ট চলাকালে গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপনে ছিলেন দীর্ঘদিন৷ পলাতক থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন৷ ২০০৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মজিবুরের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন তত্‍কালীন এমপি আব্দুল হাই৷ ২০০৪ সালের ৬ ফেব্রম্নয়ারি ইমামপুর ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রার্থী ছিল মজিবুর এবং সাবেক তিন মেয়াদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন খান বকুল৷ অপারেশন ক্লিনহার্ট প্রত্যাহারের কারণে নির্বাচনের আগেই মজিবুর এলাকায় ফিরে আসেন৷ ভোটের দিন সকালে এক ঘণ্টার মধ্যেই সব কেন্দ্র দখলে নেয় তার বাহিনী৷ প্রার্থী সালাউদ্দিন খান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বয়কট করে ঐ দিনই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন৷ পরের দিন অনেক দৈনিক পত্রিকা ও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ কিন্তু কোনো ফল হয়নি৷ সন্ত্রাসী মজিবুর হয়ে যায় চেয়ারম্যান৷ আর তা সম্ভব হয়েছে তত্‍কালীন সাংসদ আবদুল হাইয়ের ক্ষমতার বদৌলতে৷ এরপরই গজারিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন মজিবুর৷ বালু মহাল, শিল্প-প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, বালি ভরাট, এলজিইডি, খাদ্য গুদাম ও থানা প্রশাসনসহ সব কিছুই চলেছে মজিবুরের ইশারায়৷ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হলেও মজিবুরের নিয়ন্ত্রণে ছিল থানা বিএনপির মূল দল ও অঙ্গ সংগঠনসহ দলীয় কার্যক্রম৷ থানা বিএনপির সভাপতি পদে একজন অধ্যাপক দায়িত্বে থাকলেও সন্ত্রাসী মজিবুরের কাছে তিনি ছিলেন অনেকটা অসহায়৷ আর সাংসদ আবদুল হাই মোটা অঙ্কের টাকা পেতেন৷ এ টাকার লেনদেনের দায়িত্বে ছিল চেয়ারম্যান মজিবুর৷

জানা গেছে, মজিবুর এলাকায় একসময়ে ভবঘুরে হিসেবে পরিচিত ছিল৷ এখন চড়ে বেড়ায় দামি মাইক্রোবাসে৷ মালিক হয়েছে বাড়ি-গাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ প্রচুর নগদ অর্থের৷ বেকারত্বের কারণে তার সঙ্গে বিয়ে দিতে কোনো মেয়ের পরিবার রাজি না হলেও ৪৫ বছরের মজিবুর জোট সরকারের আমলে বিয়ের কাজটাও সম্পন্ন করে ফেলে কোটি টাকা খরচ করে৷ ‘দাদাভাই মজিবুর’ হিসেবে তার পরিচিতি এলাকার সর্বত্র৷ একসময়ের টিনের ঘরের জায়গায় উঠেছে অট্টালিকা৷ পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের তৃতীয় তলার নির্মাণ শেষ করতে মজিবুরের খরচ হয়েছে ৫০ লাখ টাকা৷ বাড়ির আশপাশের খালগুলো মাটি ভরাট করে তৈরি করেছে কোটি টাকা মূল্যের সমপরিমাণ সম্পত্তি৷ সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা নিউটাউনে কিনেছে ৫ কাঠা জমি৷ এ জমির বর্তমান মূল্য ৫০ লাখ টাকারও বেশি৷ রসুলপুর বাজারে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করে বানানো হয়েছে একটি ভবন৷ একই এলাকার খেয়াঘাটে আরেকটি ভবন নির্মাণে খরচ হয়েছে ১৫ লাখ টাকা৷ এর দ্বিতীয় তলায় রয়েছে মজিবুরের নিজস্ব অফিস৷ পিজি হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের ক্যান্টিনের অংশীদার মজিবুর৷ মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে তার মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টটির দাম ১০ লাখ টাকা৷ ধানমণ্ডি সানরাইজ পস্নাজায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের পজিশন, বসুন্ধরায় দুটি পস্নট, গুলশানে ফ্ল্যাট, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে ১০ কাঠা জমি, একই জেলার কাইউমপুরে ৫ কাঠা জমির মালিকানা মজিবুরের৷ মাহিন-নাহিন-২-৩ নামে তিনটি বালু কাটার ড্রেজার আছে৷

অপরাধের বিস্তৃত রূপ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইতোপূর্বে ইমামপুর ইউনিয়ন যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকত, তাদের নিয়ন্ত্রণেই চলেছে গজারিয়া উপজেলার অপরাধ জগত্‍৷ স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ইউনিয়নের ইমামপুর, বায়াইকান্দি, দৌলতপুর, আন্দারমানিক, রসুলপুর গ্রামের দেড় থেকে দুই শতাধিক ক্যাডারের কাছে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ শতাধিক অবৈধ অস্ত্র রয়েছে৷ অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারিগর রয়েছে ১০ থেকে ১২ জন৷ এসব ক্যাডার ও অবৈধ অস্ত্র ভাণ্ডারের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছে মজিবুরের সহোদর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান মিজান৷ জোট সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই উপজেলার অপর প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে গঠন করে একটি দুর্ধর্ষ ক্যাডার বাহিনী৷

জানা গেছে, মজিবুর বালু মহাল, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি থেকে জোট সরকারের আমলে হাতিয়ে নিয়েছে কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা৷ এলজিইডির সব কাজের টেন্ডারের ভাগবাটোয়ারা হতো মজিবুরের ইচ্ছে মাফিক৷ তার পছন্দের দলীয় নেতাকমর্ী ও ক্যাডারদের ভাগবাটোয়ারা করে দিলেও মজিবুর চেয়ারম্যানকে মোট কাজের ১০ শতাংশ কমিশন দেয়া ছিল বাধ্যতামূলক৷ অবশ্য বড় টেন্ডারের কাজগুলো মজিবুর ও ছোট ভাই মিজানের নামেই নেয়া হয়েছে৷ এজন্য মজিবুর চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন মেসার্স এমআর ট্রেডার্স ও হীরা ট্রেডার্স এবং সহোদর মিজানের মালিকানাধীন হীমা কনস্ট্রাকশন – জোট আমলে এই তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে এলজিইডির অধিকাংশ বড় কাজ দেয়া হয়েছে৷ কাজের মান নিম্নমানের এবং অনেক সময় কাজ শেষ না করলেও বিল পেতে তাদের কখনো অসুবিধা হয়নি৷ ওয়ান ইলেভেনের পরও এলজিইডি নিয়ন্ত্রণ করছে তারা দুই সহোদর৷

সমপ্রতি রসুলপুর থেকে ইমামপুর পর্যন্ত সড়কের মেরামতের কাজ দেয়া হয়েছে মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন হীমা কনস্ট্রাকশনকে৷ স্থানীয় ঠিকাদার মিলনের অভিযোগ, তিনি সর্বোচ্চ দরদাতা হলেও অবৈধভাবে কাজ দেয়া হয় মিজানকে৷ ইমামপুর গ্রামের মাহাব সাপ্তাহিককে জানান, রসুলপুর গ্রামের খায়রুলের বাড়ি সংলগ্ন সেতু মেরামতের জন্য রাতের অন্ধকারেই মিজান ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে৷ নামমাত্র সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে ঢালাইয়ের কাজে৷

তাদের অবৈধ আয়ের আরেক উত্‍স হলো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, বালিভরাট ও জমির কেনা-বেচায় দালালি৷ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছোট-বড় শতাধিক ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দেয়া হয় চেয়ারম্যান মজিবুরকে৷ দেশের অনেক শিল্প উদ্যোক্তা মিল কারখানা স্থাপনের জন্য এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় জমি ক্রয় করেছেন৷ এখানে মধ্যস্থতার কাজ করেছেন মজিবুর গ্রুপ৷

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় প্রতি বিঘা জমির মূল্য ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা৷ জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন শিল্প উদ্যোক্তা ৮ থেকে ১০ হাজার বিঘা জমি ক্রয় করেছেন৷ কিন্তু রেজিস্ট্রির সময়ে বিঘাপ্রতি জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা৷ চেয়ারম্যান মজিবুর কমিশন বাবদ পেয়েছে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা৷ তা ছাড়া নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের আগে বালু ভরাটের কাজ তাকে দেয়া একরম বাধ্যতামূলক৷ স্থানীয় ঠিকাদাররা কম দরে বালি ভরাট করতে আগ্রহী থাকলেও বেশি টাকায় মজিবুর বাহিনীকেই কাজ দেয়া হয়৷

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১/১১-এর পর ২০০৭ সালে গজারিয়া বালু মহাল থেকে সরকারের রাজস্ব আয় দাঁড়ায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা৷ কিন্তু জোট সরকারের পুরো সময়ে বালু মহাল থেকে রাজস্ব আয় পেয়েছে মাত্র ১০ লাখ টাকা৷

মজিবুরের ক্ষমতার বদৌলতে থানা শিক্ষা কার্যালয় নিয়ন্ত্রণে রেখেছে আরেক সহোদর কাশেম মাস্টার৷ রসুলপুর সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়ে কর্মরত কাশেম মাস্টারকে বেশিরভাগ সময় দেখা যায় থানা শিক্ষা অফিসে৷ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলির বিষয়টি তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন৷ এলাকার সালিশ করে থাকেন তিনি৷ টাকা নিয়েই রায় দেয়া হয়৷ বিচারে জরিমানা হলে জরিমানার ১০ শতাংশ কাশেম মাস্টারকে দিতে হয়৷ এলাকাবাসী জানান, মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে কাশেম মাস্টার বর্তমানে কোটিপতি৷ রসুলপুরে ২০ লাখ টাকায় তৈরি করেছেন দোতলা বাড়ি৷ নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে রয়েছে দুটি বাড়ি৷ ব্যাংক এ্যাকাউন্ট রয়েছে একাধিক৷

নারী নির্যাতন ও ওয়াজ মাহফিলে হামলার অভিযোগে দু’টি মামলাসহ শতাধিক অভিযোগ থাকলেও মজিবুর এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ নিয়মিতই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যথাক্রমে মোহাম্মদ রম্নহুল আমিন ও ওমর ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাত্‍ করছেন মজিবুর৷ ওসি ওমর ফারুক অবশ্য সাপ্তাহিককে জানান, নারী নির্যাতন মামলাটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে৷ আর অপর মামলায় জামিনে রয়েছেন চেয়ারম্যান মজিবুর৷ অথচ মজিবুরের নেতৃত্বে ওয়াজ মাহফিলে হামলায় স্বয়ং ওসি আহত হলেও গজারিয়া থানা পুলিশ এ ব্যাপারে কোনো মামলা দায়ের করেনি৷ অভিযোগ উঠেছে, মজিবুরের সঙ্গে ওসি ওমর ফারুকের নেপথ্য লেনদেনের সম্পর্ক থাকায় আহত হয়েও তা হজম করেছেন তিনি৷

চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি রসুলপুর গ্রামে ওয়াজ-মাহফিলে চেয়ারম্যান মজিবুরকে প্রধান অতিথি না করায় তার নেতৃত্বে মাহফিলে হামলা হয়৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ওসি ওমর ফারুকসহ ৩০ জন আহত হয়েছে৷ শেষ পর্যন্ত র্যাব-১১’র সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে৷ এ ব্যাপারে স্থানীয় আব্দুল হক বাদী হয়ে মজিবুরকে প্রধান আসামি করে ৩৩ জনের নামে থানার মামলা করেন৷

এদিকে মৌসুমী আক্তার নামে এক যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঢাকার খিলগাঁও থানায় মামলা হয় মজিবুরের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৭ অক্টোবর৷ মামলা নম্বর ৩০৷ তদন্তকারী কর্মকর্তা আলী হায়দার জানান, বাদীর তার ঠিকানায় ‘১৪ নম্বর, খিলগাঁও স্টাফ কোয়ার্টার’ উল্লেখ থাকলেও এই নম্বরে বাড়ি পাওয়া যায়নি৷ তবে সাপ্তাহিকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২ লাখ টাকায় আপোস হয়েছে৷ গজারিয়া থানায় এ মামলার ওয়ারেন্ট পাঠানো হলেও তাকে গ্রেপ্তার করেনি ওসি ওমর ফারুক৷

আর এখন উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে মজিবুর রহমান তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে পুরোদমে শক্তিশালী করার মিশনে নেমেছে৷ তার বাহিনী প্রধান সেনাপতি ১০ বছর সাজাপ্রাপ্ত ও ৩২ মামলার আসামি তাইফুরকে জেল থেকে বের করে আনতে উঠে-পড়ে লেগেছে৷ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে তার শতাধিক ক্যাডার বাহিনী পুরো এলাকা চষে বেড়াচ্ছে৷ নিয়মিত মহড়া দিচ্ছে উপজেলা চত্বর৷
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান সাপ্তাহিককে জানান, আমার স্থানীয় প্রতিপৰ নাসির মিয়াজী নামে-বেনামে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বানোয়াট অভিযোগ করে যাচ্ছে আমার বিরম্নদ্ধে একের পর এক৷ তার বিরম্নদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের প্রসঙ্গে সাপ্তাহিককে বলেন, এগুলো সাজানো মামলা৷ আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য একটি মহল আমার বিরম্নদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাকে ঘায়েল করার চেষ্টা চালাচ্ছে৷